,

 

চট্টগ্রাম বন্দরের ইজারা বন্ধের দাবিতে মশাল মিছিল

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : 22 July 2026, 10:15

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং বন্দরের অন্য কোনো স্থাপনা বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা না দেওয়ার দাবিতে মশাল মিছিল করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম। একই সঙ্গে আগামী ২ আগস্ট বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।

বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় চেরাগীর মোড় থেকে লালদিঘির পাড় পর্যন্ত এ প্রতীকী মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসনের অনুরোধে কর্মসূচিটি প্রতীকী আকারে পালন করা হয়।

মিছিলের আগে চেরাগীর মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার। সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু। সমাবেশে বক্তব্য দেন– জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির এ এম নাজিম উদ্দিন, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. আব্দুল বাতেন, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম এবং বন্দর মার্চেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা নূর হোসেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি কৌশলগত প্রতিষ্ঠান। বন্দরের লাভজনক টার্মিনাল বা অন্য কোনো স্থাপনা বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হলে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দরের আধুনিকায়নের নামে জাতীয় সম্পদ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেই বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন করতে হবে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশজুড়ে ধারাবাহিক প্রতিবাদ, সমাবেশ, মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচি চললেও সরকার জনগণের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তারা বলেন, অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত ইজারাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও করেছিল। তবে জনবিরোধিতার মুখে তা সফল হয়নি। বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ইজারার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সরকার একটি ‘সাপোর্ট টিম’ গঠন করেছে, যা জনমতের প্রতি অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো ইজারা চুক্তি করা হলে তা দেশের মানুষ মেনে নেবে না এবং ইতিহাসে তা জাতীয় স্বার্থবিরোধী ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

সমাবেশ থেকে অবিলম্বে এনসিটি, সিসিটিসহ চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো স্থাপনা ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

সমাবেশে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার আগামী ২ আগস্ট সকাল ১১টায় আগ্রাবাদের বাদামতলী মোড় থেকে বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বন্দর ও দেশের স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে শ্রমিক, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী, যুবসমাজ ও সচেতন নাগরিকদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা জ্বালানো মশাল হাতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে চেরাগীর মোড় থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত মিছিল করেন।

ভিডিও