প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির বেশ কিছু উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে জনজীবন আবারো স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
বন্যার পর সমতল এলাকায় পানিবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিলেও এ অঞ্চলে পানিবাহিত রোগের কোন প্রাদুর্ভাব তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে যখন চারদিক নদী, ঝিরি, ঝর্ণা, কূয়ার পানি শুকিয়ে যায় তখন বিশুদ্ধ পানির সংকটে পাহাড়ে বসবাসরতদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। বিশুদ্ধ পানির সংকটে স্থানীয়দের কাপ্তাই হ্রদের পানি পান করতে হয়। যে কারণে শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলে পানিবাহিত রোগের ছড়াছড়ি হয়।
এবারের বন্যায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে বিলাইছড়ি এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা। এ দু’টি উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা কাপ্তাই হ্রদের পানিতে তলিয়ে যায়। যে কারণে এ উপজেলাগুলোর ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মৎস্য এবং কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় মানুষের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
বিলাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: সুরজিৎ দত্ত বলেন, বিলাইছড়ি উপজেলায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে এখানে পানিবাহিত রোগী নেই বললে চলে। গত এক সপ্তাহ আগে একজন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছিলো। তিনি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন।
ডা: সুরজিৎ আরও বলেন, মূলত এখানে পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা বাড়ে শুষ্ক মৌসুমে।
রাঙামাটি সিভিল সার্জন ডা: নূয়েন খীসা বলেন, পার্বত্য এলাকা এবং সমতলের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। সমতলে বন্যা হলেও এখানে বন্যা হয় না। প্রবল বর্ষণের সময় এ অঞ্চলের নিচু এলাকাগুলো ডুবে যায়। ওই এলাকায় কয়েকদিন পানি স্থায়ী হলেওে তা দ্রুত নেমে যায়। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ে বসবাসরত অনেক সাধারণ মানুষ পানি সংরক্ষণ করে রাখে।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, আমাদের মূলত পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ে শুষ্ক মৌসুমে। অর্থাৎ সমতলের বিপরীত বলা চলে।
পূর্বতারা/ইউডি/এমইউবি