নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনালসহ (সিসিটি) চট্টগ্রাম বন্দরের যেকোনো স্থাপনা ইজারা দেওয়ার ‘চক্রান্ত বন্ধের দাবিতে’ প্রতীকী গণঅনশন পালন করছে বন্দর রক্ষা কমিটি। শনিবার(১৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি শুরু হয়, যা চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
কর্মসূচি চলাকালে কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, আমরা বলতে চাইছি, বন্দর দেশের সম্পদ। আমাদের সম্পদ তার মালিকানা জনগণের থাকবে। আর সরকার হচ্ছে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। সরকার জনগণের পক্ষে থাকবে। আমাদের সকল বক্তব্য লড়াই সংগ্রাম হচ্ছে সরকারকে জনগণের পক্ষে আনার জন্য।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আমাদের সম্পদ লুণ্ঠন করার জন্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এবং সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদ দেশে কিছু অনুচর সৃষ্টি করেছে। অতীতেও আমরা ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে এসএসএ পোর্টের মত ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছি।
দেলোয়ার মজুমদার বলেন, তখন আমরা মামলা করে প্রমাণ করেছি, সেটা ভুয়া কোম্পানি। এখন যে কোম্পানিগুলোকে দেওয়া হচ্ছে এতে করে বন্দরের সম্পূর্ণ আয় তারা নিয়ে যাবে। ছিটেফোঁটা একটু আমাদের জনগণের ভাগ্যে থাকবে।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, বন্দরে যে ইক্যুপমেন্ট আছে, বন্দর চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘সেগুলো অকেজো হয়ে যাচ্ছে’। এটা উনি মিথ্যা কথা বলেছেন। ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার জন্য ঢাকাতে সিরিজ বৈঠক চলছে। চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের একমাত্র বন্দর। এই বন্দর যদি বিদেশিদের হাতে চলে যায়, আমরা অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়ব। দেশ এবং জনগণের ক্ষতি হবে। আশা করব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত যাতে হস্তক্ষেপ করে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।”
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত বলেন, আমরা শুনেছি এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার জন্য সমস্ত প্রস্তুতি হয়ে গেছে। সারা দেশব্যাপী বুদ্ধিজীবী, শ্রমিক, ছাত্র, জনতা একজোট হয়েছে বন্দর না দেওয়ার ব্যাপারে, যারা এই চুক্তি করবে তারাই বিদেশের দালাল হিসেবে চিহ্নিত হবে।
বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে অংশ নেন সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি কমরেড অশোক সাহা, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান এবং জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারন সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, ন্যাপ নেতা মিটুল দাশগুপ্তসহ বিভিন্ন শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বন্দর রক্ষা কমিটি একই দাবিতে এর আগে মানববন্ধন, প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান, সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন, গোলটেবিল বৈঠক, কালো পতাকা মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে।