টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার পর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় জুলাই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, এবার ডেঙ্গুর উপসর্গে কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তাই একদিনের জ্বর হলেও অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার পর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে। কয়েক দিন আগেও রোগীশূন্য থাকা ৫০ শয্যার ওয়ার্ড এখন প্রায় পূর্ণ। প্রতিদিন মহানগরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়া রোগীদের অধিকাংশই চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, মীরসরাইসহ আশপাশের উপজেলা থেকেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসার জন্য আসছেন।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ১২ দিনে জেলায় ১৭৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা, টানা বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডেঙ্গু ফোকাল পার্সন ডা. নূর মোহাম্মদ বলেন, এবার ডেঙ্গুর উপসর্গে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাই একদিনের জ্বর হলেও অবহেলা না করে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন জানান, হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বাড়লেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসাসেবা দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে চট্টগ্রামে মোট ৫২৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু জুলাই মাসের প্রথম ১৭ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ২৩১ জন। ফলে বর্ষাকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।