চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও জনদুর্ভোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টি কমলেও সাঙ্গু, ডলু, হালদা,মাতামুহুরী, নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে এখনো। জেলার সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, হাটহাজারী সন্দ্বীপ, মিরসরাই,ফটিকছড়ি, আনোয়ারা, বাঁশখালীর প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
শুক্রবার বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন।
এসময় জেলা প্রশাসক বলেন, পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়নের সবগুলোই প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে এবং প্রায় চার লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি রয়েছেন। সরকার বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক বিষয়ে অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত বন্যায় প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১০ জন। এর মধ্যে শুক্রবার বাঁশখালীতে স্রোতে ভেসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।‘
পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলায় ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।’
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও সাতকানিয়া-বান্দরবান সড়কে যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বন্যা দুর্গত অনেক এলাকায় এখনো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২’শ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। আরো বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, দুর্গত মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০০ টন চাল ও ৪৩ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৪০০ টন চাল ও ১৭ লাখ টাকা মজুদ রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে, বৃষ্টি একটু কমলেও চট্টগ্রামের বিভিন্ন নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে জেলার দক্ষিণ পূর্ব ও উত্তর পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, চট্টগ্রামের সাঙ্গু নদীর বান্দরবান পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার ও দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে ১৬২ সেন্টিমিটার ও চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
পূর্বতারা/ইউডি