Monday, 29 June 2026

পকেটের টাকায় চট্টগ্রামে ডেঙ্গু সামলাবে বৈশ্বিক সংস্থা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : 29 June 2026, 04:44

ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সেবা জোরদারে চট্টগ্রাম মহানগরে এবার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বৈশ্বিক মানবিক সংস্থা ‘মেডিসিন সান্স ফ্রন্টিয়ার্স’ (এমএসএফ)। সংস্থাটি সেবা প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে মাঠে নামছে। তবে এ কার্যক্রমের বাংলাদেশ সরকারের কোনো অর্থায়ন নেই। পুরো প্রকল্পের ব্যয়ভার বহন করছে এমএসএফ।

এ নিয়ে গত ২৩ জুন সংস্থাটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে সমঝোতা স্মারকে সই করেছে।

একই দিনে একাধিক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি :

এমএসএফ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে ৩ বছর মেয়াদী চুক্তিটি সই হয়েছে। আগামী ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথেও চুক্তি করেছে সংস্থাটি। পৃথক চুক্তিতে চসিকের পক্ষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও এমএসএফ এর পক্ষে মেডিকেল কোঅর্ডিনেটর ডা. কারমেঞ্জা গালভেজ এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি সই করেছেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) এর সাথেও সমঝোতা স্মারকে সই করেছে সংস্থাটি।

চুক্তির আওতায় কার্যক্রম সমূহ :

চুক্তি অনুযায়ী, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান, ডেঙ্গু নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে। দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, রিপোর্টিং ব্যবস্থা উন্নতকরণ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও কমিউনিটি সচেতনতা বৃদ্ধি, কারিগরি সহায়তা প্রদান ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তাও দেয়া হবে।

এর আওতায় চট্টগ্রাম নগরীতে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ, লার্ভা জরিপ, কমিউনিটি আউটরিচ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভেক্টর কন্ট্রোল কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সিভিল সার্জন কার্যালয়, সিটি কর্পোরেশন, সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও স্বায়ত্তশাসিত সব হাসপাতালকে এই একটি কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

বক্তব্য :

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। একক কোনো সংস্থার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এই চুক্তির মাধ্যমে আমরা শহরের সব সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে। প্রকল্পের পুরো ব্যয়ভার বহন করছে এমএসএফ। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা আমাদেরকে সহায়তা করবে। তাদেরকে সাথে নিয়ে আমরা মশা নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার মান উন্নত করতে একসঙ্গে কাজ করব।

এ ব্যাপারে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গু ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয়। এমএসএফের সঙ্গে সহযোগিতামূলক এই সমন্বিত কাঠামো ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

পূর্বতারা/ইউডি

ভিডিও