একীভূত ব্যাংকে আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষা, বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন চালুর দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে চট্টগ্রামের আমানতকারীরা। তবে দীর্ঘদিন ধরা চলমান এ আন্দোলনের কোনো সুফল তারা এখনো পাচ্ছেন না।
আজ সোমবার (২৯ জুন) সকালে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে আমানতকারীরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে। ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন-চট্টগ্রাম বিভাগ’ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আমানতকারীরা তাঁদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে, ‘হেয়ার কাট’ (মুনাফা কেটে রাখা) নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী মুনাফাসহ মূল আমানত ফেরত দেওয়া, সব ব্যাংকের মতো স্বাভাবিক লেনদেন চালু, তারল্যসংকট মোকাবিলায় বিশেষ সহায়তা, মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের টাকা চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ এবং আগের চুক্তিভিত্তিক মুনাফার হার বহাল রাখা।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি শারমিন আক্তার বলেন, ‘আমরা আমাদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছি। আমরা আমাদের ন্যায্য অর্থের জন্যে আন্দোলন করছি। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া না হলে, আমরা কঠিন কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।’
এর আগে বেলা ১১টার দিকে নগরের নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থান নেন আমানতকারীরা। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা আমানত ফিরে পেতে ‘হই হই রই রই, আমানতের টাকা গেল কই’; ‘আমার টাকা ব্যাংকে, আমি কেন রাস্তায়’, ‘হেয়ার কাট, হেয়ার কাট, মানি না মানব না’-সহ নানা স্লোগান দেন।
উল্লেখ্য, একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকে হেয়ার কাট বাতিল এবং লেনদেন স্বাভাবিক করার দাবিতে চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন আমানতকারীরা। ব্যাংকগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে।
পূর্বতারা/ইউডি