,

 

চট্টগ্রাম কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতির নেপথ্যে কি ?

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : 19 July 2026, 12:49

২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমসকে ১ লাখ ২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের টার্গেট দিয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে বছর শেষে সেই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৮৫ হাজার কোটি টাকা। তবে এই রাজস্ব ঘাটতির পেছনে সমূহ কিছু কারণ রয়েছে বলে মনে করেন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের দাবি, নানা রকমের সুক্ষ্ম কারচুপি, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি প্রত্যাশিত রাজস্ব আয়ের উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে শুল্ক ফাঁকি রোধ করতে হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, এনবিআরের পক্ষ থেকে রাজস্ব আদায়ের যে টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনে আমরা আশাবাদী। গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের যে ধারাবাহিকতা ছিল, সেটি বজায় রাখতে পারলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়। চলতি অর্থবছরে এনবিআরের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম কাস্টমসকে ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের টার্গেট দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া পণ্যের বিপরীতে ৫০ হাজার ৫০১ কোটি টাকা শুল্ক, ৬৬ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) এবং ১৫ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা সম্পূরক শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম কাস্টমের আইসিডি শাখার জন্য ২ হাজার ৯৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে গত অর্থবছরের রাজস্ব ঘাটতির মধ্যে নতুন অর্থবছরের এই টার্গেট কতটা পূরণ করতে পারবে চট্টগ্রাম কাস্টমস তা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, রাজস্ব বাড়াতে হলে আমদানি নীতিকে আরও সহজ করতে হবে। কাস্টমসকেও ব্যবসাবান্ধব ও সহনশীল হতে হবে।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, রাজস্ব বাড়াতে চাইলে এনবিআরের উচিত চট্টগ্রাম চেম্বারসহ সংশ্লিষ্ট ট্রেড বডিগুলোর সঙ্গে বসে সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা। যারা কর দেবেন তাদের সঙ্গে আলোচনা না করে একতরফাভাবে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যৌক্তিক নয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বলেন, ব্যবসায়ীরা অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুল করলে তাদের প্রতি সহনশীল হতে হবে। প্রয়োজন হলে জরিমানা করা যেতে পারে, তবে আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেই দ্রুত পণ্য ছাড়ের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। আমদানিকারকদের যৌক্তিক সহযোগিতা করা গেলে বড় এই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।

চলতি অর্থবছরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বেনাপোল, মোংলা ও পানগাঁও কাস্টম হাউজসহ দেশের ১৮টি কাস্টমস বিভাগকে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে এনবিআর।

পূর্বতারা/ইউডি

ভিডিও