,

 

বন্যায় ভেসে গেছে ইসমাঈলের স্বপ্নের সবজিখেত

আমিনুল ইসলাম খন্দকার

প্রকাশ : 17 July 2026, 07:57

বান্দরবানের লামার সবজি চাষী ইসমাঈলের স্বপ্ন ছিল খেতের চিচিঙ্গা,করলা,কাকরোল বিক্রি করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে দিল সর্বনাশা বন্যা। টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ইসমাঈলের সবজিখেত ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে তাঁর প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শুধু ইসমাঈল নন, বন্যার কারণে বান্দরবানের লামাসহ বিভিন্ন উপজেলার কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েন।

​ভুক্তভোগী মো. ইসমাঈল লামা উপজেলার ২ নং সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শিলেরতুয়া এলাকার বাসিন্দা। পাহাড়ের ঢালু ও সমতল মিলিয়ে ৩ একর জমিতে তিনি বিভিন্ন জাতের সবজি চাষাবাদ করেছেন।

মো. ইসমাঈল জানান, ধারদেনা ও জমানো টাকা খরচ করে তিনি চিচিঙ্গা, করলা, কাকরোল ও বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির আবাদ করেছিলেন। কিন্তু গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তার ফসলি জমি পুরোপুরি তলিয়ে যায়। পানির প্রবল তোড়ে ফসলের পাশাপাশি কৃষি সরঞ্জাম ও সেচ পাম্পের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

​ক্ষতিগ্রস্ত এ কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “এই ফসল বিক্রির টাকা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ঋণের কিস্তি পরিশোধের স্বপ্ন ছিল। বন্যায় সব ভেসে যাওয়ায় এখন আমি পথে বসার উপক্রম হয়েছি।”

​স্থানীয় অন্যান্য কৃষকরা জানান, হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় ফসল রক্ষার কোনো সুযোগই পাওয়া যায়নি। লামা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই বন্যায় ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে সরকারি সহযোগিতা ও দ্রুত পুনর্বাসন কর্মসূচির দাবি জানিয়েছেন।

​এ বিষয়ে লামা উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার অভিজিৎ বড়ুয়া জানান, বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে তাদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

পূর্বতারা/ইউডি

ভিডিও