,

 

খাগড়াছড়িতে মৌসুমি ফলের বাম্পার ফলন, ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ চাষিরা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : 3 July 2026, 02:57

সবুজ পাহাড় আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা খাগড়াছড়িতে চলতি মৌসুমে কাঁঠাল, আম, আনারস, ড্রাগন, লটকন ও কলাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলে বাম্পার উৎপাদন হয়েছে। তবে বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলার ফলচাষি ও বাগান মালিকরা।

স্থানীয় কৃষক ও বাগান মালিক সবিনয় চাকমা বলেন, উৎপাদিত ফল বাজারজাত করতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে টোল ও অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এতে জেলার বাইরের ব্যবসায়ীরা ফল কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে কৃষকরা উৎপাদনের তুলনায় অনেক কম দামে ফল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

খাগড়াছড়ি শহরের ফল বিক্রেতা মো. জাফর বলেন, এ বছর ফলের উৎপাদন ভালো হলেও অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারে দাম কমে গেছে। কৃষকরা যে মূল্য আশা করেছিলেন, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক কম দামে ফল বিক্রি হচ্ছে।

আরেক বিক্রেতা মংশি মারমা বলেন, বাইরের জেলার পাইকারদের উপস্থিতি কম থাকায় স্থানীয় বাজারেই বেশি ফল বিক্রি হচ্ছে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ২০ হাজার ২১২ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ৬৭৮ মেট্রিক টন ফল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফল উৎপাদন হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ফল বাজারে চলে আসায় সরবরাহ বেড়ে গেছে এবং এর প্রভাব দামে পড়েছে।

খাগড়াছড়ি ফলদ বাগান মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের আহ্বায়ক কালোবরণ চাকমা অভিযোগ করেন, কাঁঠাল, আম, আনারস, কলা ও ড্রাগনসহ বিভিন্ন ফল পরিবহনের সময় রাস্তায় রাস্তায় বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের নামে টোল দিতে হচ্ছে। শুধু পার্শ্ববর্তী কুমিল্লায় একটি মিনি ট্রাকে ফল পাঠাতেই প্রায় ছয় হাজার টাকা ব্যয় হয়। এতে ফলচাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ফলচাষিরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের উৎপাদিত ফল বাজারজাত করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসন নজরদারি করছে। তবে টোল বা চাঁদা আদায়ের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভিডিও