,

 

বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গু, এক মাসেই চার গুণ রোগী বৃদ্ধি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : 3 July 2026, 10:33

বর্ষা শুরু হতেই চট্টগ্রামে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসের তুলনায় জুন মাসে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ জরিপে নগরীর আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ৩১৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারিতে ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন, মার্চে ২০ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মে মাসে ৩৭ জন, জুনে ১২২ জন এবং জুলাইয়ের প্রথম দুই দিনেই ১৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, গত জুন মাসে পরিচালিত জরিপে নগরীর ১৮টি ওয়ার্ডের ৩৭০টি বাড়ির মধ্যে ৯৯টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে, যা মোট বাড়ির ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। একই সময়ে ১১৪টি লার্ভাযুক্ত কনটেইনার শনাক্ত করা হয়েছে।

জরিপে উত্তর কাট্টলী, পাহাড়তলী, আলকরণ, পশ্চিম বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, দক্ষিণ বালুচরা, পাথরঘাটা এবং আন্দরকিল্লা—এই আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শনাক্ত হওয়া এডিস মশার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই এডিস ইজিপটাই, যা ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রধান বাহক।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে আগাম প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধ মজুত রাখার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংয়ের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মশা নিধনের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের এবং জরিপের ফলাফল তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ’র (বিআইটিআইডি) অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশীদ বলেন, বর্ষার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। তাই সবাইকে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে হবে এবং বাসাবাড়ির আশপাশে কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। জ্বর, শরীরব্যথা বা র‌্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম তুলে ধরে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গত ছয় মাস ধরে প্রচলিত রাসায়নিকের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব আমেরিকান প্রযুক্তির বিটিআই ব্যবহার করা হচ্ছে। মশক নিধন কার্যক্রম তদারকিতে সাতজন পরিদর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সকালে লার্ভিসাইড এবং বিকেলে এডাল্টিসাইড প্রয়োগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা কর্নার চালু করা হয়েছে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি জানান, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ২০৫ জন স্প্রে ম্যান নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এছাড়া ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে বিশেষ স্প্রে টিম কাজ করছে।

ভিডিও