হঠাৎ করে বাজারে ডিমের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। ১২০ টাকা ১৩০ টাকার লাল ডিমের ডজন এখন ১৫৫/১৬০ টাকায় এসে ঠেকেছে। আর মুরগির কেজি চলছে ১৭৫ টাকা/১৮০ টাকা। বাজারে পণ্যদ্রব্যের উচ্চমূল্যে এমনিতেই চিড়ে চ্যাপ্টা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতা সমাজ। তারওপর মুরগি আর ডিমের এমন পাঞ্জা লড়াইয়ে তাদের দম বন্ধ হওয়ার জো হয়েছে। গরীবের আমিষ খ্যাত পণ্যের মধ্যে কোনটা কিনবেন ? মুরগি নাকি ডিম – এই দোটানায় কাটছে তাদের নিত্য সদাই।
মাস খানেক আগে যে লাল ডিমের খামার মূল্য প্রতি পিস সাড়ে ৭ থেকে ৮ টাকায় , সেই লাল ডিম এখন খামারে বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা ৭০ পয়সায়। খুচরা পর্যায়ে ডজনপ্রতি ডিমের দাম ১৫০ টাকায় ঠেকেছে। প্রান্তিক বা মফস্বল এলাকায় তা ১৫৫/১৬০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে হাঁসের ডিম এক ডজন ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বহদ্দার বাজারের ডিম ব্যবসায়ী মোসলেহ উদ্দিন জানান, আড়ত থেকে কেনার পর পরিবহন খরচ, ভাঙনের ঝুঁকি এবং আমাদের মুনাফা সবকিছুর পড়তা মিলিয়ে খুচরা দামে তার প্রভাব পড়ছে। দাম বাড়ায় ডিমের বিক্রিও কমেছে।
অন্যদিকে, বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭৫ টাকা ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা মো. জমিউল আসলাম বলেন, কি খাব আমরা ? বাজারে ৬০টাকা/৭০ টাকার নিচে সবজি নেই। ২০০ টাকার নিচে মাছ নেই। মুরগির কেজি ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা। এখন দেখছি মাস খানেক ধরে ডিমের দাম প্রতিদিন বাড়ছে।
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাজীর দেউড়ি, দুই নম্বর গেইট কাঁচা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ঢেঁড়স ৯০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১১০ টাকা, কাঁকরল ১০০ থেকে ১২০, পটল ৮০ থেকে ১০০, মুলা ৯০ থেকে ১০০, ফুলকপি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বাঁধাকপি ৮০, শসা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, কচুর মুখি ৮০, পেপে ৬০, ধুন্দল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৭০ টাকা করে বিক্রি করছেন। এছাড়া প্রতি আঁটি লাল শাক ২০ থেকে ৩০ টাকা, ডাটা ৪০ টাকা ও প্রতিহালি কাঁচকলা ৩০ থেকে ৫০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। ধনেপাতা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। বাজারে এক হালি লেবু ১০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পূর্বতারা/ইউডি