দিনাজপুরের বিরামপুর থেকে ১৮-২০ জন মিলে কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়েছিলেন হিমেল আহমেদ ও আবু সাঈদরা । আনন্দ ফূর্তিতে বেশ ভালই কাটল কক্সবাজারে। আজ সোমবার ফেরার পথে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ট্রেনে উঠেছিলেন তারা। পুরো দলটি ট্রেনের নন-এসি কোচের (ঢ বগি) ৩৫-৩৬ নম্বর আসনে বসা ছিলেন। ফুরফুরে মেজাজে বাইরের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে হিমেল ও তার বন্ধুরা যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন অন্যমনে। এভাবে তারা কক্সবাজার থেকে চকরিয়া পর্যন্ত আসেন। ট্রেনটি চকরিয়া ছেড়ে কিছুদূর অতিক্রম করলে হঠাৎ বাইরে থেকে একটি পাথর এসে লাগে সরাসরি হিমেলের (২৫) মুখে। পাথরের আঘাতে ভেঙ্গে যায় হিমেলের চারটি দাঁত। কয়েক সেকেন্ডের মাথায় আরেকটি পাথর এসে লাগে আবু সাঈদের (৪০) ঘাড়ে। এতে গুরুতর আহত হন আবু সাঈদ। পরে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে চিকিৎসা শেষে তারা আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
শুধু হিমেল বা আবু সাঈদ নন। গত মার্চ মাস থেকে চলতি এপ্রিল পর্যন্ত কক্সবাজার রুটের ট্রেনে প্রায় প্রত্যেকদিনই ঘটে চলেছে পাথর নিক্ষেপের দুর্ঘটনা। তবে সব দুর্ঘটনা রেলওয়ে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের খাতা পর্যন্ত পৌঁছায় না। রেলওয়ের কাছে সংরক্ষিত পাথর নিক্ষেপ ঘটনার রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাতকানিয়া থেকে রামু স্টেশন পর্যন্ত এলাকায় পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বেশি ঘটছে। এ অঞ্চলটিই সবচেয়ে বেশি বিপদজনক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রেলওয়ে পুলিশকে চকরিয়া-হারবাং এলাকায় নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি রেলওয়ের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত কয়েকটি ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হারবাং থেকে রামু স্টেশন পর্যন্ত এলাকায় পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বেশি ঘটেছে। ২ মার্চ রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা স্টেশনের কাছে ঢাকাগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর নিক্ষেপে রেলের বেডিং পোর্টার পদে কর্মরত ছাবের আহমদ (৫২) গুরুতর আহত হন। ৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকামুখী পর্যটক ট্রেনে কক্সবাজারের রামু ও ঈদগা স্টেশনের মধ্যবর্তী জোয়ারিয়া নালা এলাকায় পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় দুই যাত্রী আহত হন। ৯ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাতকানিয়া ও ডুলাহাজরার মধ্যবর্তী এলাকায় পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। ১৪ মার্চ রামু স্টেশন থেকে পর্যটক এক্সপ্রেস ঈদগাঁ অভিমুখে আসার সময় ছোড়া পাথরের আঘাতে ১১ বছর বয়সী শিশু অর্ণন চৌধুরীর মুখ থেতলে যায়। ২১ মার্চ চকরিয়া স্টেশন ছেড়ে কক্সবাজার যাওয়ার পাথরের আঘাতে রেণু বালা নামের ষাটোর্ধ এক মহিলার চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চোখে সানগ্লাস থাকায় বড়জোর গুরুতর আঘাত থেকে তিনি বেঁচে যান।
গত এক বছরে কক্সবাজার রুটে অন্তত ৩৮টি পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ১৪ জন আহত হয়েছেন।
পূর্বতারা/ইউডি