,

 

নগরে গ্যাসের জন্য হাহাকার, টার্মিনালে কাজ চলছে

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : 24 July 2026, 08:58

চট্টগ্রামে আজ শুক্রবারও গ্যাসের জন্য হাহাকার দেখা গেছে। মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি সারাতে কাজ করছে বিদেশি বিশেষজ্ঞ দল। এমন অবস্থায় গৃহস্থালি,বাণিজ্যিক ও শিল্প কারখানা খাতে গ্যাসের সংকট রয়েই গেছে। এতে করে উৎপাদন, যোগাযোগ ও আবাসিক খাতে চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ) মো. রফিক খান বলেন, এলএনজি টার্মিনালে কাজ চলছে। তাই প্রায় অর্ধেক সরবরাহ বন্ধ। এতে করে গ্যাসের চাপ কমে গেছে। ফলে চট্টগ্রামে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপও কমে গেছে। এ কারণে কারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে গ্যাস ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছে। আজ শুক্রবার রাত বা আগামীকাল শনিবারের মধ্যে মেরামতের কাজ শেষ হলে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।

দেশে এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম। এর মধ্যে মঙ্গলবার মহেশখালীর দুটি টার্মিনালের একটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এতে গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয় কর্তৃপক্ষকে। এর ফলে ওই টার্মিনাল দুটি থেকে সরবরাহকৃত ১০০ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে যায়। এতে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে যায়।

এর ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাসের সরবরাহে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রামে দৈনিক প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ২২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা সিইউএফএলে সার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে শুধু বহুজাতিক সার কারখানা কাফকো চালু রয়েছে। কাফকোতে সরবরাহ করা হচ্ছে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কেন্দ্রে দৈনিক দেওয়া হচ্ছে ৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। বিদ্যুৎ ও সার কারখানা বাদে বাকি ১৩২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে চট্টগ্রামের শিল্প-কারখানা, সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন, বাণিজ্যিক ও আবাসিক খাতে। যা চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বলা যায়।

গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। শুক্রবার বন্ধের দিনেও চালকদেরকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

সিএনজি চালক মো. রহিম বলেন, প্রায় দুই/তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে তারপর গ্যাস পাচ্ছি। তাও চাহিদা মত পাওয়া যাচ্ছে না। ২০০/৩০০ টাকার গ্যাস দিচ্ছে পাম্প থেকে। ওই গ্যাস দিয়ে গাড়ির ইনকামও উঠতাছে না। আমাদের সংসার চালাবো ?

নগরীর বাদুড়তলা এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী মনিকা তাবাস্সুম বলেন, গতকাল থেকে গ্যাসের চাপ একেবারে কমে গেছে। মাটির চুলায় কালো লাকড়ি দিয়ে রান্না চলছে।

পূর্বতারা/ইউডি

ভিডিও