,

 

গাড়িতে সেনাবাহিনীর স্টিকার, ২৮ হাজার ইয়াবাসহ সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ : 24 July 2026, 04:10

কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্টিকার লাগানো একটি ল্যান্ড ক্রুজারে অভিযান চালিয়ে ২৮ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওবায়দুল হাসান (৪১) নামের সেনাবাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়িটিও জব্দ করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৯ টার দিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ৩ নম্বর গেটের সামনে এ অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তার ওবায়দুল হাসান বগুড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগুপাড়া এলাকার মৃত দেলোয়ার রহমানের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ল্যান্স করপোরাল পদে কর্মরত ছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন। বর্তমানে গাজীপুরে বসবাস করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, একটি দামি ল্যান্ড ক্রুজারে করে কক্সবাজার থেকে ঢাকার দিকে ইয়াবার একটি চালান নেওয়া হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়।

ওসি বলেন, রাত পৌনে নয়টার দিকে সন্দেহভাজন গাড়িটি চেকপোস্টে পৌঁছালে পুলিশ থামার সংকেত দেয়। তবে চালক গাড়ি না থামিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া করে গাড়িটি আটক করে।

তিনি বলেন, গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিটের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ২৮ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮৪ লাখ টাকা। সেনাবাহিনীর স্টিকারযুক্ত একটি গাড়িতে ইয়াবা পাচারের ঘটনা উদ্বেগজনক। এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওবায়দুল হাসান দাবি করেছেন, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি গাড়িটি নিয়ে কক্সবাজারে আসেন এবং রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তবে গাড়িতে ইয়াবা কীভাবে এসেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন।

এর আগে গত ১৫ জুলাই কক্সবাজারের রামুতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেট কারে ইয়াবা পাচারের সময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ওই সময় গাড়িটি থেকে ছয় হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল তখন বলেছিলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টিকার ব্যবহার করে মাদক পাচারের এমন কৌশল অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

পূর্বতারা/ইউডি/টিএ

ভিডিও