আইনি কাঠখড় পুড়িয়ে ফটিকছড়ি আসনের বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর বিজয়ী হিসেবে আদালতের রায়ে এখন সংসদে। ১৪ জুলাই তিনি সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। তবে সরোয়ারকে সংসদের অধিবেশন থেকে দূরে রাখতে তৎপর একই আসনের জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী নুরুল আমিন।
একের পর এক আইনি চাল দিয়ে সরোয়ার আলমগীরকে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছেন তিনি। তার আইনি চালে সরোয়ার সংসদে গেলেও অধিবেশনে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারবেন কিনা তা নিয়ে এখন ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার রায় স্থগিত চেয়ে নুরুল আমিনের করা আবেদন শুনানির জন্য ২৭ জুলাই তারিখ রেখেছেন আপিল বিভাগ।
আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগে আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়। আপিল বিভাগ শুনানি মুলতবি করে পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে ৯ জুলাই হাইকোর্ট রায় দেন। বিপরীতে রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিন ১২ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করেন। আবেদনটি ১৩ জুলাই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন চেম্বার আদালত আবেদনটি ১৯ জুলাই আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় আবেদনটি আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় ২০ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।
আদালতে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। সরোয়ারের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, আপিল বিভাগের চার সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আবেদনটি শুনবেন। তাই আগামী সোমবার (২৭ জুলাই) শুনানির দিন রেখেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য চলতি বছর ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ওইসময় তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিন আপিল করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে সরোয়ারের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। নির্বাচনে বিজয়ী হয়েও তিনি সংসদে শপথ নিতে পারেননি। তবে এ নিয়ে সরোয়ার আলমগীর দমে যাননি। চালিয়ে গেছেন আইনি লড়াই। অবশেষে ৯ জুলাই মনোনয়নপত্র বৈধ বলে আদালত তার পক্ষে রায় দেন। ওই দিনই তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।
পূর্বতারা/ইউডি