চট্টগ্রাম নগরের জামালখানে সাত বছরের শিশু মারজান হক বর্ষা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রায় তিন বছর পর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে আলোচিত এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শুনানি শেষে আসামি লক্ষণ দাশের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় (লাশ গুম) অভিযোগ গঠন করেন।
মামলার বাদীপক্ষকে আইনি সহায়তা দেওয়া সংস্থা হিউম্যান রাইটস বাংলাদেশের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে অভিযোগ গঠন করতেই প্রায় তিন বছর লেগেছে। এ বিলম্বের কারণে ভবিষ্যতে সাক্ষী হাজির করা কঠিন হতে পারে, যা ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করবে। বিলম্বের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
আদালত সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর বিকেলে কুসুম কুমারী বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী মারজান হক বর্ষা চিপস কিনতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। তিন দিন পর ২৭ অক্টোবর জামালখানের সিকদার হোটেলের পাশের নালা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বস্তায় থাকা টিসিবির সিলমোহরের সূত্র ধরে পরদিন ২৮ অক্টোবর মুদির দোকানের কর্মচারী লক্ষণ দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে বর্ষাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং মরদেহ গুম করার কথা স্বীকার করেন।
তবে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ প্রতিবেদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগায় মামলার তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘদিন আটকে ছিল। এখন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।