চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত শনাক্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরের জুলাই মাসের প্রথম ২১ দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা ৩০৫ জনে পৌঁছেছে, যা বছরের মোট আক্রান্তের অর্ধেকেরও বেশি।
সোমবার (২১ জুলাই) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ৬০৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন, মার্চে ২০ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মে মাসে ৩৭ জন, জুনে ১২২ জন এবং চলতি জুলাই মাসের ২১ দিনেই ৩০৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
এ ছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া ১৬ রোগীর মধ্যে ৫ জন পুরুষ, ৭ জন নারী এবং ৪ জন শিশু। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৯ জন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এছাড়া বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে ১ জন, আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে ১ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ১ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন এবং বেসরকারি ক্লিনিকে ৩ জন ভর্তি হয়েছেন।
এ পর্যন্ত আক্রান্ত ৬০৩ জনের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের বাসিন্দা ২৩৬ জন, বিভিন্ন উপজেলার ২৪৭ জন এবং অন্যান্য উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ১২০ জন রয়েছেন।
চলতি বছরে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত দুইজন মারা গেছেন। এর মধ্যে একজন ফেব্রুয়ারিতে এবং অন্যজন জুলাইতে মারা যান।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বর্ষাকালে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার প্রজনন বেশি হওয়ায় সংক্রমণও বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবাইকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি বলেন, জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।