চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় চারটি অভ্যন্তরীণ ও কানেক্টিং সড়ক নির্মাণ করতে চায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এর মধ্যে দুটি সড়ক সিডিএ’র সিলিমপুর আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে এ প্রস্তাবে সায় দেয়নি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। আবাসিক এলাকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তারা সেনাবাহিনীকে বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সিলিমপুর আবাসিকের প্লট মালিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সড়কের সাইট পরিদর্শন করেন সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদেরকে এ পরামর্শ প্রদান করেন।
তিনি জানান, জঙ্গল সলিমপুরের ওই সড়কটি মূল আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে করার সুযোগ নেই। তবে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে খালের পাড় ধরে সাময়িকভাবে একটি অস্থায়ী পথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে স্থায়ী কোনো সড়ক আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে না করলে ভালো হয়। আমরা প্লট মালিকদের পরামর্শ অনুসারে সেনাবাহিনীকে বিকল্প স্থান দেখিয়ে দিয়েছি। প্রস্তাবিত বিকল্প রুটের প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করে তারা পরবর্তীকালে সিডিএকে হালনাগাদ অগ্রগতি জানাবে।
সিডিএ সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুর একটি স্পর্শকাতর এলাকা। ওই এলাকার সঙ্গে একটি শান্ত-সংরক্ষিত আবাসিক এলাকার সরাসরি সংযোগ ঘটানো হলে তা সিলিমপুর আবাসিকের জন্য নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই স্থানীয় প্লট মালিকদের পরামর্শক্রমে বিকল্প স্থানে সড়ক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে সেই সড়কটি স্থায়ী হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেও মনে করে সিডিএ ও প্লট মালিকরা।
উল্লেখ্য, জঙ্গলসলিমপুরে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সড়ক প্রকল্পের আওতায় ছিন্নমূল এলাকা থেকে আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয়, আলীনগর থেকে টেক্সটাইল এলাকা হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, আলীনগর থেকে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) সংলগ্ন ভাটিয়ারী-বালুচড়া লিংক রোড হয়ে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক পর্যন্ত এবং জঙ্গল সলিমপুরের অভ্যন্তরে একটি সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী।
পূর্বতারা/ইউডি