চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ও জরাজীর্ণ কনটেইনারের কারণে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে। গত সোমবারের অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বন্দরের নিলাম শেডে আবারও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। যদিও এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে বন্দরজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের বিভিন্ন শেড ও ইয়ার্ডে বিপুল পরিমাণ বিপজ্জনক কেমিক্যাল এবং ধ্বংসের অপেক্ষায় থাকা পণ্য জমে আছে। বর্তমানে শুধু পি-শেডেই ৩০২ প্যাকেজ কেমিক্যাল ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া নিলাম বা ধ্বংসের অপেক্ষায় থাকা আরও ১২২ প্যাকেজ কেমিক্যাল দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে।
এর বাইরে বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে ধ্বংসের অপেক্ষায় থাকা ৩৩১ টিইইউএস অতি বিপজ্জনক পণ্যবোঝাই কনটেইনার রয়েছে। এর মধ্যে ৪২টি কনটেইনার ইতোমধ্যে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যে অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে কেমিক্যাল আমদানি করা হয়। পরে এসব পণ্যের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় সেগুলো বছরের পর বছর বন্দরে পড়ে থাকে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা রাসায়নিক পদার্থের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে কনটেইনারে লিকেজ দেখা দিলে আগুন বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। ফলে বন্দরের কার্যক্রম ও নিরাপত্তা উভয়ই হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এ ধরনের বিপজ্জনক পণ্য অপসারণে অতীতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও উচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলা ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেগুলো নিলামে বিক্রি কিংবা ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। তবে সম্প্রতি এসব কেমিক্যাল ধ্বংসের জন্য তৃতীয় পক্ষের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন জানান, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হোলসিমের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে। চুক্তি সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় এসব কেমিক্যাল ধ্বংস করা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন) কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন পড়ে থাকা কনটেইনারে অনেক সময় লিকেজ দেখা দেয়। এর ফলে ভেতরে থাকা রাসায়নিক পদার্থের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হতে পারে। তাই এসব পণ্য ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২২ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ৪ নম্বর বার্থে একটি রাবার গ্যান্ট্রি ক্রেনে আগুন লাগে। এতে কয়েকটি কনটেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি কনটেইনারে থাকা আমদানি করা ফ্রিজ পুড়ে যায়, যা প্রায় এক বছর ধরে ডেলিভারি না হওয়ায় নিলামের অপেক্ষায় ছিল।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বন্দরের নিলাম শেডে আবারও আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।