চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচ বছরের শিশু জায়ান নিখোঁজ ও পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মুক্তিপণের চিরকুটই শেষ পর্যন্ত তদন্তে বড় সূত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিরকুটের কাগজ, খসড়া লেখা এবং হাতের লেখার মিলের ভিত্তিতে মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পারিবারিক জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, গত ১৬ জুন নিখোঁজ হওয়ার পর শিশুটির পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি চিরকুট রেখে যাওয়া হয়। তবে তদন্তে দেখা যায়, ওই চিরকুটে কোনো যোগাযোগ নম্বর বা অর্থ আদায়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না, যা শুরু থেকেই সন্দেহের সৃষ্টি করে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, ঘটনাটি তদন্তে গিয়ে পুলিশ একাধিক স্থানে তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে একটি বাড়ি থেকে চিরকুটে ব্যবহৃত একই ধরনের প্যাড উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি সেই লেখার খসড়া বা ড্রাফটও একই স্থান থেকে পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, চিরকুটের প্যাড, খসড়া লেখা এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে আমরা নিশ্চিত হই যে এটি ওই বাড়িতেই লেখা হয়েছিল। এরপর ওই বাড়ির সদস্যদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং প্রত্যেককে আলাদা করে হাতে লেখা পরীক্ষা করানো হয়। এতে ওই বাড়ির তরুণী সাদিয়া আক্তার নেহার লেখার সঙ্গে চিরকুটের লেখার উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া যায় বলে জানায় পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে সাদিয়া আক্তার অন্য একজনকে জড়ানোর চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন, তিনিই মুক্তিপণের চিরকুট লিখেছিলেন। এই স্বীকারোক্তির পরই তদন্তে নতুন মোড় আসে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে শিশু জায়ানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জেলা পুলিশ সুপার আরও বলেন, খুব সূক্ষ্ম আলামত ধরে আমরা এগিয়েছি। চিরকুট, খসড়া লেখা এবং হাতের লেখার মিলই মূল সন্দেহভাজনের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া উপজেলার পৌর সদরের দক্ষিণ গোবিন্দরখিল গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয় পাঁচ বয়সি জায়ান। সে ওই এলাকার গ্যারেজ মালিক শাহজাহানের ছেলে। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিন লাখ টাকার মুক্তিপণ দাবির একটি চিরকুট ঘরে পাওয়া যায়। এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে রাতে পটিয়া থানায় জিডি করেন শিশুটির বাবা।