বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

চামড়ার বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তায় চট্টগ্রামের আড়তদাররা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫

কোরবানির ঈদের প্রায় তিন সপ্তাহ হয়ে গেলেও চট্টগ্রামে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ পশুর চামড়া এখনো বিক্রি হয়নি। আতুরার ডিপোসহ নগরীর বিভিন্ন আড়তে লবণ দিয়ে সংরক্ষিত এসব চামড়া পড়ে থাকায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন আড়তদাররা।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, কোরবানির ঈদে চট্টগ্রাম মহানগর ও ১৫ উপজেলায় চার লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো। কোরবানি দাতারা ১’শ থেকে ৩’শ টাকায় সেই চামড়া বিক্রি করেছেন। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৪০টি কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করেছিলেন চট্টগ্রামের আড়তদাররা। এর মধ্যে গরুর চামড়া ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯০টি, ছাগলের চামড়া ৫৩ হাজার ৮’শটি এবং মহিষের চামড়া ১১ হাজার ৯৫০টি।

আড়তদারদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক কম দামে চামড়া কিনতে চাইছে ঢাকার ট্যানারি মালিকরা। প্রতি বর্গফুট চামড়ার নির্ধারিত দাম ৫৬ থেকে ৬২ টাকা হলেও বাজারে প্রস্তাব করা হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। ফলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় বিক্রি আটকে আছে।

বর্তমানে নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় খোলা আকাশের নিচে ও অস্থায়ী গুদামে লবণ দিয়ে সংরক্ষিত রয়েছে হাজার হাজার চামড়া। তবে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় বৃষ্টির পানিতে চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় আরও বাড়ছে।

আড়তদাররা জানান, শুধু এবারই নয়, গত কয়েক বছর ধরেই চামড়া ব্যবসা সংকটে পড়েছে। ঢাকার ট্যানারিগুলোর কাছে বকেয়া টাকা, লবণের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় ও মূলধন সংকট—সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের চামড়া ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, কোরবানির আগে সরকার পশুর চামড়া সংগ্রহে নানা উদ্যোগ নিলেও পরে আর খবর রাখে না। মাঠপর্যায়ে চামড়া সংগ্রহ করেন আড়তদাররা। কিন্তু সরকার সকল সুবিধা দেয় ট্যানারি মালিকদের। এখন সরকার নির্ধারিত দামের অর্ধেকে ট্যানারিগুলো চামড়া কিনতে চাচ্ছে। এতে আড়তদারদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

ভিডিও