সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে একের পর এক অভিযান, ক্যাম্প গঠন, সড়ক নির্মাণসহ প্রশাসনের নানা তৎপরতায় সন্ত্রাসীরা এখন আস্তানা পাল্টাতে শুরু করেছেন। তারা এখন রাউজান,রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও ভুজপুরের পাহাড়ে নতুন আস্তানা গেড়েছেন। পুলিশও স্বীকার করেছে একথা। তারা বলছে, সমতলে এসে ঘটনা ঘটিয়ে সন্ত্রাসীরা পাহাড়ে পালিয়ে যাচ্ছে । যে কারণে তাদের ধরা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
হত্যা,খুন করে সন্ত্রাসীরা পাহাড়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির প্রাকৃতিক পাহাড়ের সুবিধা নেয় সন্ত্রাসীরা। ঘটনা ঘটিয়ে তারা পাহাড়ে পালিয়ে যায়। তবে এই সুবিধা বেশিদিন ব্যবহার করতে পারবে না। রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিরা শনাক্ত ও চিহ্নিত হয়েছে। সবাই রাউজানের চিহ্নিত সন্ত্রাসী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তবে শুধু মাসুদুল হক হত্যাকাণ্ড নয়, ৫ আগস্টের পর গত ২২ মাসে রাউজানে একে একে খুন হয়েছেন ২৫ জন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা,চাঁদাবাজি, বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে এ হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটেছে । এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে ২৫টি মামলা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে দায়ের ২৫টি মামলায় এই পর্যন্ত প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে নিহতদের পরিবারের দাবি, প্রকৃত খুনি ও অস্ত্রধারীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদেরকে ধরতে না পারার কারণ হিসেবে রাউজান,রাঙ্গুনিয়া,ফটিকছড়ির পাহাড়গুলোকেই দেখছে আইনশৃ্ঙ্খলা প্রশাসন।
বিষয়টি নিয়ে রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সংঘটিত প্রতিটি হত্যার আসামিদেরকে ধরতে অভিযান চলছে। পাহাড় ও দুর্গম এলাকায় লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল ও চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভৌগলিকগত ভাবে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও ভুজপুর উপজেলা পার্শ্ববর্তী এলাকা। রাউজান উপজেলার উত্তরে ফটিকছড়ি উপজেলা, দক্ষিণে বোয়ালখালী উপজেলা ও কর্ণফুলী নদী, পূর্ব রাঙ্গুনিয়া ও কাউখালী (রাঙ্গামাটি), পশ্চিমে হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলা দ্বারা বেষ্টিত। আবার কদলপুর, হলদিয়া, ডাবুয়া ও রাউজান ইউনিয়নের একটি অংশ পাবর্ত্য রাঙামাটির সঙ্গে মিশেছে। এসব পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি। সেখানে হাজার হাজার মানুষের বাস।
পূর্বতারা