চট্টগ্রাম নগরীতে মশা নিয়ন্ত্রণে প্রতি বছর ব্যয় বাড়লেও কমছে না মশার উপদ্রব। ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও জনবল মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয় করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। তবে নগরবাসীর অভিযোগ, এত বিপুল ব্যয়ের পরও মশার যন্ত্রণায় স্বস্তি মিলছে না।
চসিকের তথ্য অনুযায়ী, মেয়র শাহাদাত হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মশা নিয়ন্ত্রণে ৩.৮০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে চসিক। এরপর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ১০ মাসে ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা। এছাড়া ৩৫৫ জন অপারেটরের বেতন বাবদ প্রতি মাসে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
২০০০ সাল থেকে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে চসিক মোট ৪৬.৯৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। এর মধ্যে গত এক দশকে এ খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। তবে ব্যয়ের সঙ্গে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ফল। গত চার বছরে মশাবাহিত রোগে গড়ে প্রতিবছর ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ৭ হাজার ২০০ জন।
নগরীর চান্দগাঁও, হালিশহর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, মোহরাসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হয় না। অনেক এলাকায় দুই মাসেও একবার স্প্রে করতে দেখা যায় না বলে দাবি তাদের।
এদিকে মশা নিধনের আধুনিক প্রযুক্তি ও জৈবিক লার্ভিসাইড উৎপাদন ব্যবস্থা পরিদর্শনে চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেনের প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্র সফর সম্প্রতি বাতিল হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও মেয়র দাবি করেছেন, সম্ভাব্য ওই সফরের মাধ্যমে দেশে জৈবিক লার্ভিসাইড উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার অভাব। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মো. আহসান হাবিব সিয়ামের মতে, চসিকের কার্যক্রমে কীটতত্ত্ববিদদের সম্পৃক্ততা না থাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে নগর পরিকল্পনাবিদ মো. দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, দীর্ঘদিন একই ধরনের কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মশার মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। তাই কার্যকর ওষুধ নির্ধারণে নিয়মিত গবেষণা ও পরীক্ষাগারভিত্তিক মূল্যায়ন প্রয়োজন।
চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী অবশ্য স্বীকার করেছেন যে কিছু ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে ঘাটতি রয়েছে। তবে তিনি জানান, পূর্ণবয়স্ক মশা মারার চেয়ে লার্ভা ধ্বংসে এখন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং অন্তত সপ্তাহে একবার প্রতিটি এলাকায় ওষুধ ছিটানো নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।