কক্সবাজার আদালতে মামলায় হাজিরা দিতে আসা বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালায় প্রতিপক্ষ খালেক। এতে মহিউদ্দিন ও রণি নামে দুই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মূলত আধিপত্য বিস্তারের জন্য লিয়াকত আলী ও তার অনুসারীদের সাথে স্থানীয় বিএনপির আরেক নেতা মো. খালেকের অনুসারীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে লিয়াকত আলীর ছোট ভাই মো. জায়েদ জানান, রোববার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে এসেছিলেন তারা। তার বড় ভাই লিয়াকত আলী, তিনি, তার চাচাতো ভাই মহিউদ্দিনসহ আরও কয়েকজন আদালতে এসেছিলেন। হাজিরা শেষে বের হয়ে গাড়িতে উঠার সময় খালেক ও তার লোকেরা আমার ভাই লিয়াকত আলীকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করতে থাকে।
তিনি আরও বলেন, আমরা কিছু বুঝে উঠার আগেই খালেক গুলি শুরু করে। সে আমার ভাই লিয়াকত আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালায়। এসময় আমার চাচাতো ভাই মহিউদ্দিন পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। খালেক মূলত ইয়ারা ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে তাদের সাথে আমাদের বিরোধ। আমার ভাইকে মারার জন্য অনেকবার চেষ্টা করেছে। সে আমাকেও তিনচারটা মামলা দিয়েছে। খারাপ মহিলা ভাড়া করে আমাকে ধর্ষণ মামলাও দিয়েছে। সে আমাকেও কয়েকবার হুমকিও দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিয়াকত আলী কক্সবাজার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। গুলিবিদ্ধ মহিউদ্দিন ও রণি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। তিনি একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত আলীর ওপর হামলা চালিয়েছে তাঁর প্রতিপক্ষরা। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়ার (বিসিক এলাকা) নিজ বাড়িতে গিয়ে লিয়াকত আলীকে গুলি ও কুপিয়ে জখম করেছিল দুর্বৃত্তরা। আজ আদালতে মামলার হাজিরা দিয়ে বের হওয়ার পথে লিয়াকত আলীকে লক্ষ্য করে অস্ত্রধারীরা গুলি ছোড়ে।
এ ঘটনায় জিয়াউল হক জিয়া (৩৪) নামের একজনকে আটক করে লিয়াকতের সঙ্গে থাকা লোকজন। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পূর্বতারা/ইউডি