বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গ্রাফিতি অঙ্কনের চেষ্টা, পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ০৪:০২

চট্টগ্রাম নগরের টাইগারপাস এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গ্রাফিতি আঁকতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলেও কিছুক্ষণ পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রং ও উপকরণ নিয়ে একদল শিক্ষার্থী টাইগারপাস মোড়ে জড়ো হয়ে গ্রাফিতি অঙ্কনের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল, পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, একজন ছেলে পুলিশ অফিসার মেয়েদেরকে ধাক্কা মেরেছেন। এ সময় তারা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।

যদিও ডিসি আমিরুল ইসলাম বলেন, তিনি কারও গায়ে হাত দেননি। তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছেন।

জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি অপসারণের অভিযোগ ঘিরে রোববার রাত থেকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ ঘটনায় এনসিপি ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

রাতে সিটি কর্পোরেশন যাওয়ার সড়কে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাতকে দায়ী করে ‘শাহাদাত জুলাইয়ের গাদ্দার’সহ বিভিন্ন লেখা লেখেন। এরপর ছাত্রদলসহ বিএনপির স্থানীয় নেতারা এসে তার প্রতিবাদ করে বিক্ষোভ করেন। এরপর লেখাগুলো মুছে দেন। এই নিয়ে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেন। পরে পুলিশ এসে দুই পক্ষকে নিভৃত করে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও মিটিং নিষিদ্ধ করা হয়। তবে সোমবার সকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী পরিচয়ে টাইগারপাস মোড় এলাকায় নতুন করে গ্রাফিতি আঁকতে যায়।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পরিষ্কার জানিয়েছেন, গ্রাফিতি মোছার কোনো নির্দেশ তিনি দেননি, ভবিষ্যতেও দেবেন না। তার বক্তব্য, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে পোস্টার অপসারণ করেছেন। পোস্টারের আড়ালে ঢাকা পড়া কিছু গ্রাফিতি হয়তো সেই সময় দৃশ্যমান ছিল না। কিন্তু অনেক পিলারে গ্রাফিতি এখনো আছে, মোছা হয়নি।

ভিডিও