বৃষ্টি থেমে গেছে। আটকে থাকা পানিও নেমেছে বাঁধ খুলে দেওয়ার পর। ঢাকা থেকে প্রতিমন্ত্রী এসে ঘুরে দেখেছেন নগর পানিতে ‘ভাসছে না’। বলেছেন, ‘গণমাধ্যমে জলাবদ্ধতার বিষয়টি অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।’ দায় চাপিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপরও। তবে বাস্তবতা বলছে দুই দিনের জলাবদ্ধতায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন নগরীর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর উদ্যোক্তারা। পানিতে তলিয়ে কেউ হারিয়েছেন সারা জীবনের পুঁজি, কেউ বা মালামাল। আবার অনেকেই পণ্য হারিয়ে দিশেহারা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পানি নেমে যাওয়ার পর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দুদিনের জলাবদ্ধতায় স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার কথা। বিশেষ করে নগরীর প্রবর্তক ও মেডিকেল এলাকার দোকানগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি।
‘আমাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কোটি টাকা। এখানে যা আছে সব মেডিকেল ইনস্ট্রুমেন্ট। পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে মূল্যবান ডিজিটাল ব্লাড প্রেশার মেশিন, নেবুলাইজার , অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর’, বলছিলেন মেডিকেল রোডের এক ফার্মেসির দোকানদার।
একই চিত্র নগরীর প্রবর্তকে রবিউলের খাবারের দোকান। জীবনের অর্জিত পুঁজি এক করে দুই বছর আগে দোকানটি চালু করেন এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। গত দুদিনের জলাবদ্ধতায় তার স্বপ্ন ভেস্তে গেছে পানির নিচে। নষ্ট হয়েছে দোকানে রাখা আসবাব, মালামাল। দুই দিনের জলাবদ্ধতায় ব্যবসার পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা এ ব্যবসায়ী।
নগরের প্রবর্তক এলাকার কিচেন এশিয়া রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক বলেন, চেয়ার-টেবিল সরাতে সরাতেই দোকানের রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ে। ১৫–২০ মিনিটের মধ্যে সব ভেসে গেছে, রান্না করা খাবারও বাঁচাতে পারিনি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে ‘আয়াত সার্জিক্যাল’ নামের ওষুধের দোকানদার তানভির আহমেদ বলেন, পানি হু হু করে ঢুকেছে। ১০ মিনিটের মধ্যে বুকসমান পানি হয়ে যায় দোকানে। কিছুই বের করতে পারিনি। আমি পথে বসে গেলাম।
প্রবর্তক ছাড়াও নগরীর মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, চকবাজারসহ বেশ কিছু এলাকার শত শত দোকানি পড়েছেন ক্ষতির মুখে। অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন, এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ প্রতিবারই এমন ক্ষতির দেখার কেউ থাকে না, আছে শুধু পরেরবার সব হারানোর এক বুক আতঙ্ক। বছরের পর বছর বর্ষা মৌসুম এলেই লোকসানের মুখে পড়েন তারা।
তবে এসব দেখেননি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও কাল্পনিক। ২০২৪ সালের ছবি ছড়িয়ে দিয়ে একটি অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তার মতে, পাঁচটি স্থানে জলজট হয়েছিল।
এদিকে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বিষয়ে জানতে চাইলে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, যারা সেখানে আছে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলবো। যতটুকু পারবো আমরা তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।