বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, ভোগান্তিতে নগরবাসী

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৪

জ্বালানি সংকটের কারণে একাধিক বিদ্যৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামে কমেছে সরবরাহ। সেইসাথে তীব্র গরমের কারণে বেড়েছে বিদ্যুতের চাহিদা। কম সরবরাহ আর বাড়তি চাহিদার কারণে গত কয়েকদিন ধরে বেড়েছে লোডশেডিং। এতে করে দিশেহারা হয়ে উঠছেন নগরের বাসিন্দারা। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়াসার পাম্পগুলো পানি তুলতে পারছে না, ফলে অনেক এলাকায় হাহাকার শুরু হয়েছে।

পিডিবি ও চট্টগ্রাম সিস্টেম কন্ট্রোল (স্কাডা) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১০টি কেন্দ্র থেকে কোনো উৎপাদন হচ্ছে না। এর মধ্যে রাউজান ও জুলধার মতো বড় কেন্দ্রগুলোও রয়েছে। বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকেও উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে মাত্র দুটি সচল রয়েছে। বর্তমানে নগরের বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং শিকলবাহা কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

নগরীর চকবাজার, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। হালিশহরের গৃহিণী নারগিস সুলতানা বলেন, দিনে কমপক্ষে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ গেছে। এমনিতে প্রচণ্ড গরম। এর মধ্যে কিছুক্ষণ পর পর বিদ্যুৎ যাচ্ছে। একেকবার গেলে আধাঘণ্টা কমসে কম আসছে না। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি। ছোট ছোট বাচ্চারা ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছে না।

নগরের বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রতিদিনই কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। রাতে ঘুমানো যাচ্ছে না, আবার সকালে কাজে যেতে হচ্ছে ক্লান্ত অবস্থায়। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে বিদ্যুতের ক্ষেত্রে পিক আওয়ার সাধারণত বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত, যখন চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। অন্যদিকে, অফ-পিক আওয়ার হলো রাত ১১টা থেকে পরের দিন বিকাল ৫টা পর্যন্ত, তখন বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে।

চট্টগ্রাম পিডিবির সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডাটা অ্যাকুইজিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। গ্যাসের চাপ কম এবং জ্বালানি তেলের সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরবরাহের ওপর নির্ভর করে লোডশেডিংয়ের মাত্রা পরিবর্তিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকবর হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রণ হয় চট্টগ্রামসহ তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজারে বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম। গত ৪-৫ দিন ধরে চট্টগ্রামে লোডশেডিং হচ্ছে। অফ পিক-আওয়ারে ১১১ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের লোডশেডিং হলেও পিক-আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকায় লোডশেডিং কিছুটা বেশি হচ্ছে।

ভিডিও