চট্টগ্রামে এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর আগমনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। আকস্মিকভাবে সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের সাথে সাক্ষাতের ফলে সামনে এসেছে চসিক মেয়র নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়টি।
নগরের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মনজুর আলমকে এনসিপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টি নিয়েই মূলত এই সাক্ষাৎ হতে পারে।
যদিও দুইপক্ষই আলোচনাটি ব্যক্তিগত বলে জানিয়েছেন। এ বিষয় নিয়ে কোন পক্ষই স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। তবে এমন সম্ভাবনা যে ‘নেই’ তা-ও বলেননি কেউ। এ ছাড়া এনসিপির সাথে সাম্প্রতিক গড়ে ওঠা সখ্যতা এবং দলবদলের স্বভাব জোরালো করছে মোহাম্মদ মনজুর আলমের প্রার্থী হওয়ার আলোচনা।
জানা গেছে, মোহাম্মদ মনজুর আলম রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে আওয়ামী লীগের সমর্থনে নির্বাচিত হোন। পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে আবারও আওয়ামী লীগের সাথে সংশ্লিষ্টতা ছিল তার। গত রমজানে চট্টগ্রামে এনসিপির একটি ইফতার মাহফিলে ব্যবহৃত পানির বোতল ছিলো ‘মনজুর আলমের সৌজন্যে’। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছিলো। সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় এবার সরাসরি সাক্ষাতকে ঘিরে জোরালো হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।
সাক্ষাতের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয়কারী সদস্য ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ মূলত ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। এ সময় সাবেক মেয়র মনজুর আলমের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি তার সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। আগামীর রাজনীতি হবে এমন সৌহার্দপূর্ণ ও জনগণের।
এদিকে এনসিপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। এটি ছিলো একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
এনসিপি থেকে মেয়র নির্বাচন করছেন—এমন বিষয়ে জানতে চাইলে মনজুর আলম জানান, এখনও মেয়র নির্বাচনের ঘোষণা দেননি । তিনি বলেন, আমি যদি নির্বাচন করিও, সেটা কি গোপনে করতে পারব? এনসিপি থেকে করলেও (প্রার্থী) সেটা গোপনে করার তো সুযোগ নেই। তবে আজ কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। এটা শুধু একটা সৌজন্য সাক্ষাৎ।
তিনি আরও বলেন, তিনি (হাসনাত আবদুল্লাহ) অন্য প্রোগ্রামে চট্টগ্রাম এসেছেন। দুপুর ১২টার দিকে আমাকে কল করে বললেন চট্টগ্রাম এসেছেন। তখন আমি দাওয়াত দিলাম, যেন দুপুরে আমার বাসায় খাওয়া-দাওয়া করেন। ৩টার দিকে তিনি আসেন। খাওয়া-দাওয়া করেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে হাসনাত আবদুল্লাহকে বলতে শোনা গেছে, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে ব্যক্তিগত বা সামাজিক সম্পর্ক আলাদা বিষয়। আমি সেখানে চা খেতে গিয়েছিলাম।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার দাবি করেছেন, সাবেক মেয়র মনজুর আলম এনসিপির সমর্থনে সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
ফেসবুক পোস্টে আবু বাকের মজুমদার লিখেছেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে দীর্ঘদিন সাবেক মেয়র মঞ্জু তার রাজনৈতিক প্রোগ্রাম পরিচালনা করছেন। আওয়ামী লীগ করেছে এরকম অনেকেই অভ্যুত্থানের পক্ষ নিয়েছেন। মেয়র মঞ্জু বিএনপি আওয়ামী লীগ দুটোই করেছেন এবং ৫ই আগস্টের পরে বিএনপির পক্ষ থেকে মেয়র মঞ্জুর বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আজ যখন হাসনাত আব্দুল্লাহ মেয়র মঞ্জুর সাথে দেখা করতে গিয়েছেন তখন বিএনপির আরেক পক্ষ সেখানে গিয়ে মব চালাচ্ছে। মূলত সাবেক মেয়র মঞ্জু এনসিপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন।’
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে চসিকের সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় আসেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তার আগমনকে ঘিরে এলাকার বাসিন্দা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই খবরটি আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাত্রদল, জুলাই আন্দোলনের কর্মী ও ছাত্রজনতা বাসার সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তারা জানতে চান, কী উদ্দেশ্যে তিনি ওই বাসায় এসেছেন এবং সেখানে কোনো ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল কি-না।