বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামের মাছ বাজারে প্রভাব, নিত্যপণ্যের দামও চড়া

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৪

চট্টগ্রামের বাজারে জ্বালানি সংকটের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে মাছের সরবরাহে, যার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক নিত্যপণ্যের বাজারেও। ডিমসহ কিছু সবজির দাম সামান্য কম থাকলেও মাছ ও মাংস বাজারে স্বস্তি নেই—ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে দৈনন্দিন পণ্য।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সোনালি মুরগি প্রতি কেজি প্রায় ৪০০ টাকা, ব্রয়লার ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম প্রতি ডজন ১১০ টাকা। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তির আভাস মিললেও তা খুব সীমিত। করলা, ঢেঁড়স, বেগুনসহ বেশিরভাগ সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। পটলের দাম ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ অব্যাহত রয়েছে।

মাছের বাজারে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক ফিশিং ট্রলার সমুদ্রে যেতে পারছে না, ফলে বাজারে মাছের সরবরাহ কমে গেছে। এতে চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় মাছের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি সামুদ্রিক মাছ ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাষের কই মাছ প্রতি কেজি ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় কই মাছের দাম ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা। নদীর দেশি চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ১,২০০ টাকা কেজিতে। শিং মাছ ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা এবং মাগুর মাছ ২২০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রায় ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১২শ থেকে ১৫শ টাকা এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৫শ থেকে ১৬শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে কয়েক হাজার ফিশিং ট্রলার থাকলেও বর্তমানে নিয়মিত সাগরে যাচ্ছে মাত্র কয়েকশ’। প্রায় ২ লাখ জেলে এই খাতের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও জ্বালানি সংকট তাদের কার্যক্রমে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি সমুদ্রগামী ট্রলারে এক হাজার থেকে দুই হাজার লিটার পর্যন্ত ডিজেল প্রয়োজন হয়।

জলদাশ নামে এক ট্রলার মালিক জানান, তার সাতটি ট্রলারের মধ্যে চারটি জ্বালানি সংকটের কারণে ঘাটে পড়ে আছে। বাকি তিনটি সমুদ্রে গেলেও সেগুলো ফেরার পর আবার যেতে পারবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে এসে তারা তেমন কোনো পরিবর্তন দেখছেন না। এক ক্রেতা মো. রাশেদ বলেন, সবজির দাম একটু কমলেও মাছ, মাংস আর ডিমের দাম আগের মতোই বেশি। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম না কমায় খুচরা পর্যায়ে দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটও এর জন্য দায়ী।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া এবং বাজার তদারকি জোরদার না হলে নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম। উৎপাদন থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত বাড়তি খরচের চাপই বর্তমানে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, জ্বালানি সংকট শুধু মৎস্য খাতে নয়, সব সেক্টরেই প্রভাব ফেলছে। আমরা নিজেরাই অভিযান চালাতে পারছি না তেলের কারণে। নানা সমস্যা সব জায়গায় দেখা দিয়েছে। এটা ন্যাশনালি সমস্যা এবং মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

ভিডিও