বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সেহরি অবধি খোলা মার্কেট, চলছে শেষ মুহুর্তের কেনাকাটা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১২:১৮

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের শপিংমল, মার্কেট থেকে থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকান সবখানেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত নগরবাসী। ক্রেতা সমাগমের কারণে বিপনিবিতানগুলো এখন সেহরি অবধি খোলা থাকছে। ঈদের আমেজে সারাদিন- সারারাত সরগরম পুরো নগরী।

সরেজমিন দেখা গেছে, ৭০ লাখ জনসংখ্যার এ মহানগরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজার ও টেরিবাজার। এর মধ্যে কেবল রিয়াজউদ্দিন বাজারেই আছে ১৫ হাজারের বেশি পাইকারি দোকান। টেরিবাজারেও রয়েছে হাজারের অধিক দোকান। এসব দোকান থেকে চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী জেলার খুচরা দোকানিরা পণ্য সংগ্রহ করেন। এর সঙ্গে নগরের বাসিন্দারাও এসব দোকান থেকে খুচরা পণ্য কেনেন। ঈদের শেষ সপ্তাহের এ্রই সময়ে বাজার দু’টিতে ব্যবসায়ীদের দম ফেলার ফুরসত নেই। ক্রেতাদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা।

টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রত্যেক ব্যবসায়ীর বিশেষ প্রস্তুতি থাকে। গতবছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা অনেকটা ভাল। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়া নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা ছিল। তবে আল্লাহর রহমতে রেমিট্যান্স নির্ভর পরিবারগুলোতে টাকা এসেছে । স্বজনরা আনন্দে ঈদের কেনাকাটা করছেন এবার। পাশাপাশি লোকাল কাস্টমার তো রয়েছেই।

শুধু রেয়াজুদ্দিন বাজার, জহুর হকার্স মার্কেট, টেরিবাজার বা নিউমার্কেট নয়, নগরের অন্যান্য মার্কেটগুলোতেও সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় লেগেছে । বহদ্দারহাট এলিজি স্কাই পার্ক, ফিনলে সাউথ সিটি, চকবাজার বালি আর্কেড, গুলজার টাওয়ার, মতি টাওয়ার, ওয়াসা মোড় কোহিনুর টাওয়ারসহ নগরীর প্রায় সব বিপনিবিতান এখন সরগরম ঈদের কেনাকাটায়।

বিকালের দিকে এই ভিড় বাড়তে থাকে। ইফতারের পর প্রায় প্রতিটি মার্কেট,শপিংমল বা ফুটপাতের দোকানে মানুষের ঢল নামে। ক্রেতারা কোথাও দরকষাকষি, আবার কোথাও একদামে পছন্দের পোশাক কিনে নিচ্ছেন।

বহদ্দারহাটে পরিবার নিয়ে শপিংয়ে আসা ক্রেতা মো. মহসিন জানান, দোকানগুলোতে এত ভিড় যে পছন্দের ভালো পণ্য খুঁজে কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তবুও কিনতে তো হবে। আমার স্ত্রী পরিজনরা আগে এসে কিছু জামাকাপড় কিনে নিয়েছেন। আজকে আসলাম মা-বাবা, শ্বশুর পক্ষের লোকদের জন্য জামাকাপড় কিনবো বলে।

আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের মতে, এবারের ঈদ বাজারে ভারত ও চীনের পণ্যের প্রভাব কিছুটা কম। এর পরিবর্তে পাকিস্তান, তাইওয়ান ও থাইল্যান্ডের তৈরি পোশাক, মেয়েদের থ্রি-পিস, জুতা, প্রসাধনী, শিশুদের পণ্য ও ফ্যাশন সামগ্রীর চাহিদা বেড়েছে।

ভারতীয় পোশাকের দাম ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ও ভারতীয় শাড়ির চাহিদাও বেশি। সিল্ক, কাতান, টাঙ্গাইল ও ভারতীয় কাঞ্জিলাল শাড়ি ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। বেঙ্গালুরু সিল্ক কাতান ও লেহেঙ্গার দাম ৮ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

ভিডিও