বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সিএমপি’র ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান

বড় জালে ছোট মাছেরও আকাল

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ২ মার্চ ২০২৬, ০১:০৩

রীতিমত আগাম ঘোষণা দিয়ে একাধিক স্থানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ‘এট এ টাইম’ অভিযান চালিয়েছে। গতকাল ১ মার্চ নগর জুড়ে পরিচালিত বিশেষ ধরণের এ অভিযানের বিশেষ একটি নামও দিয়েছে সংস্থাটি। পুলিশের ভাষায় এটিকে ‘সিমালটেনিয়াসলি ড্রাইভ (এস ড্রাইভ)’ বলা হয়েছে।

তবে জনআতঙ্ক প্রশমন ও পুলিশের প্রতি জনআস্থা ফেরাতে এত বড় আয়োজন করে এমন অভিযান চালানো হলেও এর আউটপুট নামমাত্র। এত বড় অভিযানে একজন মাত্র ছিঁচকে সন্ত্রাসী আটক আর কয়েক রাউন্ড কার্তুজ-গুলি উদ্ধার করতে পেরেছে পুলিশ। ‘এস ড্রাইভ’ অভিযানের এমন রেজাল্টে নগরবাসীদের মনে স্বস্তির বদলে আরও অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, গতকাল সারারাত ধরে নগরীর একাধিক এলাকায় এস ড্রাইভ অভিযান চালিয়েছে নগর পুলিশ। এর আগে রাত সাড়ে ১১টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের ঘোষণা দেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। এরপর শুরু হয় পুলিশের অভিযান।একই সময়ে ১০টি দলে ভাগ হয়ে নগরের ১০টি এলাকায় যুগপৎ অভিযান চালায় পুলিশ। সিএমপির থানাগুলোর ওসি থেকে অতিরিক্ত কমিশনার পর্যন্ত সব কর্মকর্তা এই অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এস ড্রাইভ (S-Drive) বা বিশেষ অভিযানে পুলিশ বা র‍্যাব কর্তৃক আলোচিত খুনি রণিকে আটক করা হয়েছে। খুনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বায়েজিদ থানাধীন বালুছড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।তাছাড়া অভিযানে বালুছড়ার কাঠালবাগান এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনে অভিযান চালিয়ে একটি ছুরি, শর্টগানের কয়েক রাউন্ড কার্তুজ ও পিস্তলের কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে এস ড্রাইভ দল।

নগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এস ড্রাইভ অভিযানে নগরীর বহদ্দারহাট, বায়েজিদ, বালুছড়া,পাঁচলাইশ,অক্সিজেনসহ সংশ্লিষ্ট ১০টি এলাকায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।

অভিযানের বিষয়ে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, মেট্রোপলিটন এলাকায় সিএমপির অফিসার ও ফোর্সেস মিলে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অপরাধী লুকিয়ে থাকা স্থানসহ অস্ত্র ও মাদকের সম্ভাব্য সব স্থানে আমরা বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। অপরাধীদের একটি আস্তানায় হানা দিলে যাতে অন্য অপরাধীরা সরে যেতে না পারে, সে জন্য একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ‘এস ড্রাইভ’ চলবে। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা দলও মাঠে সক্রিয় রয়েছে।

এস ড্রাইভের বিধান প্রসঙ্গে পুলিশ জানায়, প্রবিধানের ৩৭৮(ঘ) ধারায় ‘সিমুলটানিয়াসলি ড্রাইভ’ অর্থ যুগপৎ অভিযান। রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ পলাতকদের বিষয়ে পর্যায়ভিত্তিক অনুসন্ধান, অনুসন্ধানের তারিখ ও উপস্থিত দুইজন সাক্ষীর নাম নথিভুক্ত করার বিধান রয়েছে। যেসব স্থানে অপরাধীরা অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হয়, সেখানে অনিয়মিত বিরতিতে অভিযান পরিচালনাই এস ড্রাইভ।

ভিডিও