,

 

গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার আশ্বাস চট্টগ্রাম ডিসির

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : 9 February 2026, 05:47

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, শতভাগ নিরপেক্ষতা ও পেশাদার দক্ষতার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে। প্রশাসনের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা পক্ষপাতের অভিযোগ কাটিয়ে এবার মাঠপর্যায়ের কাজের মাধ্যমেই আস্থা ফেরাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ প্রশাসন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে সরকারি কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বেতন নেওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাশিত নির্বাচন দিতে না পারার অভিযোগ ছিল। তবে এবার সেই আস্থার সংকট দূর করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা পক্ষপাতদুষ্ট— এমন অভিযোগে তারা বারবার আহত হয়েছেন। এবার মাঠপর্যায়ে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই সেই অভিযোগের জবাব দিতে চান তারা। সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে, তার আলোকে দায়িত্ব পালন করেই নিরপেক্ষতা প্রমাণ করা হবে।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে উল্লেখ করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে সেগুলো দেখার সুযোগ নেই। দেশের ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত কাজ করছেন। নিয়মিত মাঠপর্যায়ের তদারকির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। মাঠে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ রেখে ভয় ও আতঙ্ক দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা কর্মকর্তারা একটি বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত অবস্থানে রয়েছেন। অতীতে ভাষা আন্দোলন বা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও, এখন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব তাঁদের সামনে এসেছে।

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ জয়ী হবেন, কেউ পরাজিত হবেন— তবে প্রশাসনের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি বা দল নয়, লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও জনগণের জয় নিশ্চিত করা।

ভোটার উপস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, পর্যাপ্ত ভোটার অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই এই নির্বাচনকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো কেন্দ্রে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভা শেষে তিনি বলেন, মানুষের আস্থা ফিরছে— এটাই সবচেয়ে বড় অর্জন। স্বল্প সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে জাতিকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামিম, এনএসআইয়ের উপ-পরিচালক মো. সফিকুর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ভিডিও