চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে যারা শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সতর্ক অবস্থান নিতে হবে। বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায়, তাহলে দেশের ক্ষতি হবে, জনগণের ক্ষতি হবে। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে। বিভ্রান্তকারীরা দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করে, শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট করে চলে যাবে। নিজেদের মতো করে চলে যাবে ?
আজ রোববার (৯ আগস্ট) বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি একথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আজ দেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা কি উন্নয়নের সাথে থাকব নাকি বিভ্রান্তকারীদের সাথে থাকব ? বিগত স্বৈরাচার সরকার দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে গুটিকয়েক মানুষের হাতে তুলে দিয়েছিল। তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল; যা এদেশের মানুষের পক্ষে নয়। এদেশের মানুষের প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে হলে কিছু সময়ের প্রয়োজন। আমরা সেই কাজে হাত দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় বহু মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। আল্লাহর রহমতে ১০০ বাড়ির চাবি তুলে দিতে পারছি। কিছু দুস্থ মহিলাকে আমরা চাল দিয়ে সহযোগিতা করেছি। বর্তমান সরকারকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন, এ বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচিত করেছে। এ সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এ দেশের মানুষের পাশে থাকা, সুখে দুঃখে থাকা, মা-বোনদের পাশে থাকা, সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। এ জন্যই নির্বাচনের সময় আমরা বলেছিলাম, বিএনপি যদি আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের ভোটে সরকার গঠনে সক্ষম হয় তাহলে আমরা মূল কয়েকটি কাজে হাত দেব। তার মধ্যে একটি কাজ ছিল এদেশের মায়েদের সহযোগিতার জন্য, এদেশের নারীরা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে সে জন্য আমরা বলেছিলাম ফ্যামিলি কার্ড ঘরে ঘরে পৌঁছাব।
তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই আমরা সেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্টের কাজে হাত দিয়েছিলাম এবং আল্লাহর রহমতে পাইলট প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়ে গেছে। এ মাসের ১৬ তারিখ থেকে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করছি। সমগ্র দেশে এ বছর প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেব। এ উপজেলার মধ্যে ১০-১২ হাজার পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড আগামী অর্থবছরের মধ্যে তুলে দেব এবং আগামী চার বছর ধরে এটি চলবে। আরও অনেক মা-বোনেরা ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন। আমাদের লক্ষ্য ছিল ভাইদের পাশাপাশি যাতে বোনেরাও সংসারের হাল ধরতে পারে। একটি স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তুলতে পারে, সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারে, স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে। সেই জন্য মা’দের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এ ব্যবস্থা করছি। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ডেরও ব্যবস্থাও করেছি।
পূর্বতারা/ইউডি