,

 

পাহাড়ি ঢলে সেতু ধসে রাঙামাটি–বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

রাঙামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশ : 11 July 2026, 02:07

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটি ও বান্দরবানে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস দুধপুকুরিয়া এলাকার রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে বান্দরবান–রাঙামাটি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজঘাট সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ায় দুই জেলার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ছড়া ও নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। পানির প্রবল চাপে দুধপুকুরিয়া এলাকার রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে মুহূর্তেই আশপাশের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। এতে রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। বহু বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ে এবং কৃষিজমি, মাছের ঘের ও স্থানীয় অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উঁচু স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

এদিকে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে বান্দরবান–রাঙামাটি সড়কের ব্রিজঘাট সেতুর একটি বড় অংশ ধসে পড়ায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জরুরি রোগী পরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাহাড়ি ঢলে একই ধরনের দুর্ভোগের সৃষ্টি হলেও স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। তারা দ্রুত ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সেতু সংস্কার বা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

রাজস্থলী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুমন বলেন, রাতভর বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হঠাৎ করেই বাঁধ ভেঙে যায়। সকালে চারদিকে শুধু পানি দেখা যায়। ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া।

পথচারী মো. আলী আকবর বলেন, ব্রিজঘাট সেতু ধসে পড়ায় রাঙামাটি ও বান্দরবানের মধ্যে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলতে এবং পাহাড়ি ঢলের সময় অপ্রয়োজনে বাইরে না যেতে জনগণকে আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জরুরি পুনর্বাসন কার্যক্রমের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বান্দরবান সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, আমি নিজেও পরিবার নিয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ভিডিও