,

 

জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : 9 July 2026, 08:30

টানা ভারী বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অধীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রেখে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

জেলা প্রশাসক বলেন, দুর্যোগের এ সময়ে মানুষের জীবন রক্ষা করাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সামান্য অসচেতনতার কারণেও যেন কোনো প্রাণহানি না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি জানান, পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করা হচ্ছে। সেখান থেকে প্রতি ঘণ্টায় হালনাগাদ তথ্য নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

ত্রাণ কার্যক্রমের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। প্রথম দফার বরাদ্দ বিভিন্ন উপজেলায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বরাদ্দও দ্রুত বিতরণ করা হবে।

তিনি জানান, সাতকানিয়ায় উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করতে জরুরি ভিত্তিতে ১০টি স্পিডবোটের প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নৌকার মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, রেড ক্রিসেন্ট, আনসার বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এসব দল দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় লালখান বাজার, পোড়া পাহাড় ও ১ নম্বর ঝিলসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

বর্তমানে জেলায় ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানকারীদের জন্য চিড়া, মুড়ি, গুড়, শিশুদের জন্য মাফিন, কেক, বিস্কুট, ওরস্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি এবং গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের তথ্য অনুযায়ী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে প্রায় ৮ হাজার মানুষ ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনো দুর্গত মানুষ যেন খাদ্য বা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।

ভিডিও