চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এক টেবিলে বসেছেন জলাবদ্ধতা নিরসনে গঠিত সমন্বয় কমিটি। বিভিন্ন সংস্থার ১৯ জন সদস্যের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে চসিক সম্মেলন কক্ষে সমন্বয় কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করবে এবং চলমান প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে অনেক খাল-নালা রীতিমত দখল হয়ে গেছে। খালের পাড়ে গরুর খামার গড়ে তোলা হয়েছে। চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে আমরা নগরীর খাল, নালা ও ড্রেনগুলোকে সচল করার জন্য ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। খনন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে খালগুলোর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত খালের বাইরে আরও অনেক খাল রয়েছে, যেগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ দখল ও ভরাটের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে ৪০টির বেশি খালকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কার করা গেলে জলাবদ্ধতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় চলমান বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে খাল, নালা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্থার চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী করণীয় নির্ধারণ করা হয়।
সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনসংক্রান্ত চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো, খাল ও নালা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামছুল আলম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী, এডিসি মো. কামরুজ্জামান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল) মো. জামিলুর রহমান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার মো. ওবায়দুর রহমান, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একেএম মামুনুল বাশরী , চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আহমদ মঈনুদ্দিন, চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাঈদ, আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক আবদুর রহমান খান, ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের খাল ও জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সিটি রেড ক্রিসেন্টের সেক্রেটারি গোলাম বাকী মাসুদ।
পূর্বতারা/ইউডি