,

 

পানির চেয়ে ভয় বেশি পাহাড়ে

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : 6 July 2026, 03:42

টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে চট্টগ্রামে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।এতে চট্টগ্রাম নগরীর কোথাও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। তবে বৃষ্টিতে পানির ভয় না থাকলেও পাহাড় ধসের ভয় নগরবাসীকে তাড়া করে ফিরছে। গতকাল (সোমবার) রাতে কক্সবাজারের উখিয়ায় পাহাড়ধসে ৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় এই ভয় আরও ঘণীভূত হয়ে উঠেছে।

এমন অবস্থায় নগর ও জেলার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারী জনসাধারণকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে নানামুখী প্রচার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত প্রশাসন। তাদের পক্ষ থেকে পাহাড়ের লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া, সতর্কতামূলক মাইকিং, ত্রাণ বিতরণসহ নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানামুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারী লোকজনকে স্থায়ী পুনর্বাসনের যেহেতু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাই তাদেরকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে অবস্থানকালীন সরকারিভাবে ত্রাণ সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির আওতায় আমাদের ৫টি জোন কমিটি রয়েছে। নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা জোন কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন। ৮টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। কোনো ধরণের দুর্ঘটনা যাতে না হয় সেদিকে সতর্ক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বৃষ্টি পরবর্তী সতর্ক প্রস্তুতি শুধু নয়। জোন কমিটিগুলো এপ্রিল মাস থেকে পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আমাদের সাথে সহায়ক শক্তি হিসেবে রেডক্রিসেন্ট ও ইপসা কাজ করছে।

২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। সেদিন চট্টগ্রাম নগরীর কাছিয়াঘোনা, ওয়ার্কশপঘোনা, কুসুমবাগ ও মতিঝর্নাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ ১২৭ জনের মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, মহানগরের ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বর্তমানে ৬ হাজার ৫৫৮টি পরিবার বসবাস করছে। এর মধ্যে সরকারি সংস্থার অধীনে রয়েছে ১৫টি পাহাড়। ৭টি পাহাড় বাংলাদেশ রেলওয়ের, ২টি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৩টি, সরকারি খাস জমির ৩টি। বাকি ১১টি পাহাড় ব্যক্তিমালিকানাধীন।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে মোট ৫ হাজার ৩৩২টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে ফয়’স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিলপাহাড়েই রয়েছে ৪ হাজার ৪৭৬টি পরিবার। এছাড়া মতিঝরনা ও বাটালি হিল এলাকায় ৪৩১টি, বিজয়নগর পাহাড়ে ২৮৮টি, ষোলশহর স্টেশনসংলগ্ন পাহাড়ে ৭৪টি এবং জাকির হোসেন সড়কে পরিবেশ অধিদপ্তরসংলগ্ন পাহাড়ে ৪৬টি পরিবার বসবাস করছে।

শুধু মহানগর নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি দিনদিন বাড়ছে। সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর, হাটহাজারী, বোয়ালখালী, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, পটিয়া, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির পাহাড়ে শত শত পরিবার বসতি স্থাপন করেছে।

পূর্বতারা/ইউডি

ভিডিও