Thursday, 25 June 2026

নামফলকেই সীমাবদ্ধ শিকলবাহা খালের খনন

মহিউদ্দিন মনজুর

প্রকাশ : 25 June 2026, 03:05

বছর পেরিয়ে গেছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা খালটি খননের জন্য প্রকল্প কাজের উদ্বোধনও সম্পন্ন হয়েছে। খালের পাড়ে উদ্বোধনের নামফলক বহন করছে তার প্রমাণ। তবে বাস্তব চিত্র পুরোটাই ভিন্ন। ময়লা-আবর্জনা আর দখলে ভরাট হয়ে যাওয়া খালটির খনন বা পুনরুদ্ধারের কাজও শুরু হয়নি এখনো। কাজ শুরু না হওয়ায় প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থ ফের জমা পড়েছে সরকারি কোষাগারে। এমন অবস্থায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে কর্ণফুলীর শিকলবাহা ও খোয়াজনগর খালের প্রায় ৮ কিলোমিটার পুনঃখননে ২ কোটি ৬ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ আসে। নীতিমালা অনুযায়ী অতিদরিদ্র নারী–পুরুষ শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ব্যর্থ হোন সংশ্লিষ্টরা।

শিকলবাহা খাল এলাকায় প্রকল্পের একটি সাইনবোর্ড। তাতে লিখা- অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে ৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। সাইনবোর্ড অনুযায়ী, এ প্রকল্পে ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উপকারভোগীদের মজুরি বাবদ প্রায় ৩৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা এবং ‘নন-ওয়েজ কস্ট’ বাবদ প্রায় ৩৮ লাখ ৮৭ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ‎এছাড়া ১৭৮ জন উপকারভোগী, দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি ও ৪০ কর্মদিবসের তথ্য উল্লেখ থাকলেও কাজ শেষের নির্দিষ্ট তারিখ সাইনবোর্ডে উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিকলবাহা খাল খননের নামে কোথাও কোথাও গাছ কাটা,ঝোপঝাড় পরিষ্কার ও আংশিক মাটি কাটার কাজ হয়েছে। তবে অধিকাংশ এলাকার সীমানাপ্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

‎এই বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) সুজন কান্তি দাশ বলেন, ‘শিকলবাহা ও খোয়াজনগর খাল পুনঃখননে প্রায় ৮ কিলোমিটার কাজের জন্য যে বরাদ্দ ছিলো সেগুলোর এই অর্থ বছরে কাজ হচ্ছেনা। যার কারণে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে আবারও এই কাজের জন্য বরাদ্দ করে খাল খননের কাজ শুরু করা হবে।

অপরদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন,খাল খননের জন্য সাধারণত এত বড় অঙ্কের বরাদ্দ আসে না। ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার প্রকল্প হয়ে থাকে। দুই কোটির বেশি বরাদ্দ এসেছে কি না,তা আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং কেন বরাদ্দের অর্থ ফেরত যাচ্ছে, তা সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাইব।

পূর্বতারা/ইউ ডি

ভিডিও