চট্টগ্রামের জয়ের আশা জাগিয়েও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে হারতে হলো লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। ৭ রানের এই হারে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া।
শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ২৩ রান। ক্রিজে ছিলেন তাওহীদ হৃদয়।তবে শেষ পর্যন্ত সমীকরণটা মেলানো যায়নি। লড়াই করেও ৭ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।
শুক্রবার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশকে ১৯৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া।
১২ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১২২ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ। শেষ ৮ ওভারে ৭৫ রান প্রয়োজন তখন টাইগারদের। মাঠে ছিলেন থিতু হয়ে যাওয়া পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান।
তবে ৪ বলের মাঝে এই দু’জনকে তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরে অজিরা। ১২.৪ ওভারে অ্যারন হার্ডি ফেরান ২২ বলে ৩৬ রান করা ইমনকে। পরের ওভারে ৩৩ বলে ৪২ রান নিয়ে আউট হন সাইফ।
এরপর অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় চেষ্টা করেন সমীকরণ মেলানোর। তবে সঙ্গ পাননি। শামিম পাটোয়ারী ৮ বলে ৭ করে ফিরলে আব্দুল গাফফার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ১১ বলে মাত্র ১৩ রান করেন।
শেষ ওভারে ২৩ রান প্রয়োজন ছিল জয়ের জন্য। তবে ১৫ রান তুলতে পারেন হৃদয়। শেষ বলে এসে তিনি আউট হয়ে যান ২২ বলে ৩৫ করে। ৬ উইকেটে ১৮৯ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
এর আগে জয়ের জন্য ভালো ভিত গড়ে দেন তানজিদ তামিম। ৩.৪ ওভারে ফেরার আগে ৪ চার ১ ছক্কায় ১৫ বলে ৩০ করে আউট হন তিনি। তবে তিনে নেমে সৌম্য সরকার ৯ বলে ১৫ রানে আউট হন।
এরপর ইমনকে নিয়ে ইনিংস টানেন সাইফ হাসান। তবে তারা ফিরলে পথ হারায় বাংলাদেশ।
অজিরা এতো বড় সংগ্রহ পাবার পেছনে বড় অবদান ম্যাট রেনশর। টি-টোয়েন্টিতে নিজের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন ৫২ বলে ৮৯ রান করে। এছাড়া ২৬ বলে ৪৫ রান করেন টিম ডেভিড।
অবশ্য বড় অবদান আছে বাংলাদেশের ফিল্ডারদেরও। নাহির রানার বলে দুবার জীবন পান রেনশ। একবার নিজের বলে ক্যাচ নিতে পারেননি, আরেকবার ক্যাচ মিস করেন নাসুম।
অবশ্য বল হাতে নাসুম আহমেদ ছাড়া সবাই ছিলেন কমবেশি খরুচে, নাসুম ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। আব্দুল গাফফার ৫৩ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট, রিশাদ হোসেন দেন ৪৬ রান।
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শুক্রবার টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় ওভারে ফেরেন জশ ইংলিস। ৬ বলে ১১ রান করে আউট হন তিনি। এরপর নাহিদ ফেরান কোপার কনোলিকে।
তৃতীয় ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির পর প্রথম টি-টোয়েন্টিতে করেছিলেন ৪৭ রান। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ১ রানে নাহিদ রানার বলে স্লিপে ক্যাচ দেন কনোলি। ৩৪ রানে ২ উইকেট হারায় অজিরা।
পরের উইকেট নেন মোস্তাফিজ। ১৯ বলে ২০ রান করা অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মিচেল মার্শকে ফেরান তিনি। পাওয়ার প্লেতে ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারায় অজিরা। এরপরই রেনশ ও টিম ডেভিড হাল ধরেন।
দু’জনের জুটিতে ৫০ বলে আসে ৯৭ রান। ডেভিডকে ফিরিয়ে সাকলায়েন জুটি ভাঙলেও অপরাজিত থাকেন রেনশ। শেষ দিকে ১৩ রান করেন জুয়েল ডেভিস।
পূর্বতারা/ইউডি