শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সাতকানিয়ায় বনের জমি মানুষের দখলে

মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ০৪:৩৭
সাতকানিয়ার হরিণতোয়া এলাকায় কেঁওচিয়া বন গবেষণা কেন্দ্রের জায়গা দখল করে নির্মিত রোহিঙ্গা সানাউল্লাহর বাড়ী

সাতকানিয়া প্রতিনিধি: দখলের গ্রাসে পড়েছে সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া বন গবেষণা কেন্দ্রের সিলভিকালচার রিসার্চ বিভাগের জমি। ১০৮৪ একর পাহাড়ি সমতল ভূমি নিয়ে গঠিত এই গবেষণা কেন্দ্রের যেন কোন অভিভাবক নেই। অভিযোগ উঠেছে, এই গবেষণা কেন্দ্রের জমি দখল করে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বসতবাড়ি, মাছের খামার, পোলট্রি ফার্মসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করে রেখেছে।

নামে গবেষণা কেন্দ্র হলেও এখন আর এখানে গবেষণা হয় না। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অলস সময় কাটাচ্ছেন।

জানা গেছে, সাতকানিয়া কেঁওচিয়া বাইতুল ইজ্জত এলাকায় অবস্থিত বন গবেষণা কেন্দ্র: যার আয়তন ১০৮৪ একর। কিন্ত গবেষণা কেন্দ্রের প্রায় ৬০০ একরের মতো জমি ইতিমধ্যে বেদখল হয়ে গেছে। গবেষণা কেন্দ্রের জরাজীর্ণ অফিস ভবন। কেঁওচিয়া থেকে পার্শ্ববর্তী ছদাহা ইউনিয়নের সাড়াশিয়া মৌজা পর্যন্ত গবেষণা কেন্দ্রটি বিস্তৃত। প্রভাবশালী মহল এখানে দখলের রাজত্ব গড়ে তুলেছে। দখলকৃত ভূমির দখলস্বত্বও বিক্রি হচ্ছে। পাহাড়ি এ জমিতে গড়ে উঠেছে রোহিঙ্গা বসতি। এখানে বসতি গেড়ে রোহিঙ্গারা চট্টগ্রামসহ সারা দেশে তাদের অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বন গবেষণার জায়গা হরিণতোয়া অংশে গড়ে ওঠা রোহিঙ্গা পাড়ার নেতা সানাউল্লাহ, দিল মুহাম্মদ, ছিদ্দিকসহ আরো অনেকের বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগ রয়েছে। কারো কারো বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য দিয়ে এনআইডি তৈরির অভিযোগও রয়েছে।

‎বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনিস্টিটিউট চট্টগ্রামের পরিচালক মোহাম্মদ তারিফুল বারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দখলদারদের কোনমতেই থামানো যাচ্ছে না। গবেষণা কেন্দ্রের মূল ক্যাম্পাসেও দখলদাররা হানা দিয়েছে। অনেকে নামজারিও করে ফেলেছে। জনবল সংকটের কারণে আমরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। সরকারি জমি রক্ষার্থে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা খুবই জরুরি।

জানা যায়, বাংলাদেশে গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে ২১টি। এরমধ্যে চট্টগ্রামে রয়েছে ৬টি। এগুলো হলো, সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া, ফটিছড়ির হাজারীখিল এবং হেঁয়াকো, রাঙ্গুনিয়ার ইছামতি, মীরসরাইয়ের হিংগুলি ও সীতাকুণ্ড গবেষণা কেন্দ্র। বাকি ১৫টির মধ্যে ৩টি কক্সবাজারে। এছাড়া টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, শ্রীমঙ্গল, কাপ্তাই, গাজীপুর, মৌলভীবাজার, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনার দাকোপ, ভোলা, পটুয়াখালির গলাচিপা এবং নোয়াখালীতে একটি করে গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে ।

‎জানতে চাইলে কেঁওচিয়া বন গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘২০১৬ সালে কেঁওচিয়া গবেষণা কেন্দ্রে যোগদানের পর থেকে আমরা প্রায় ৩’শ একর জমি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি। তবে জনবল ও লজিস্টিক সংকট, পাশাপাশি প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের কারণে বন গবেষণা কেন্দ্রের জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পূর্বতারা/ইউডি

ভিডিও