বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

শিশু আয়াত হত্যা : আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০১:২১

চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করার মামলায় আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আবীর আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।  

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন বলেন, শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যার অপরাধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর পাশাপাশি লাশ টুকরো টুকরো করে প্রমাণ লোপাট ও গুম করার অপরাধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তাকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ মামলার রায়ের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে মুক্তিপণের’ জন্য শিশু আয়াতকে অপহরণ করেন প্রতিবেশী আবীর। কিন্তু কোথাও রাখার জায়গা না পেয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেয়া হয়।

সে বছরের ৩০ নভেম্বর আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাট সংলগ্ন সুইচ গেইটের এক গর্ত থেকে আয়াতের দুই পা এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই)।

২৫ নভেম্বর তাঁকে গ্রেফতারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।

তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে মো. আবির ও তাঁর ১৭ বছর বয়সী এক বন্ধুকে আসামি করা হয়। কিশোর হওয়ায় তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। আসামি আবির বর্তমানে কারাগারে আছেন। অন্যদিকে কিশোর আসামির বিচার শিশু আদালতে চলছে।

এদিকে, আয়াত হত্যা মামলার রায় ঘোষণার দিন বুধবার সকালে চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সচেতন জনসাধারণ।

পূর্বতারা/ইউডি

ভিডিও