ঈদের ছুটি ও পরবর্তী কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপের মধ্যে চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে। গত সাত দিনে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্ততত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ।
তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত পটিয়া, সীতাকুণ্ড, ফটিকছড়ি, বাঁশখালী ও কর্ণফুলী উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
গত ২৮ মে ঈদের দিন রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ভেল্লাপাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মাহিন্দ্রা থ্রি-হুইলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন এবং আহত হন অন্তত ৩০ জন। এ ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
গত ৩১ মে রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড বাজার এলাকায় বাস, ডাম্প ট্রাক, মাইক্রোবাস ও সিএনজি অটোরিকশার চতুর্মুখী সংঘর্ষে এক নারী পথচারী নিহত হন।
গতকাল পহেলা জুন ফটিকছড়ি ও বাঁশখালীতে পৃথক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়। ফটিকছড়ির আমতল এলাকায় বিআরটিসি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে নিহত হন। একই উপজেলার লেলাং এলাকায় বাসচাপায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। বাঁশখালীর মনছুরিয়া বাজার এলাকায় মাছবোঝাই পিকআপ ও সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত হন।
সর্বশেষ আজ সকালে কর্ণফুলীর শাহ আমানত সেতু এলাকায় দ্রুতগতির একটি পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে নিহত হন।
সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং, চালকদের অসতর্কতা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। তারা সড়কে কঠোর নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহ সভাপতি ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া বলেন, একজন চালকের হাতে অনেক যাত্রীর জীবন নির্ভর করে। তাই চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গতি নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে সচেতনতা এবং নিরাপদ ড্রাইভিং দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। শুধু হেলমেট ব্যবহার বা আইন প্রণয়ন করলেই দুর্ঘটনা কমবে না; কার্যকর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা এবং আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।