চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এক ভিন্নরকম ঈদের দিন। হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে হামে আক্রান্ত ছোট্ট শিশুরা। জ্বর আর দুর্বলতায় কাতর মুখে চুপচাপ তাকিয়ে আছে সিলিংয়ের দিকে। পাশে বসে আছেন বাবা-মা কিংবা নিকট আত্মীয়রা। চোখে উদ্বেগ, মুখে ক্লান্তি, আর মনে অনিশ্চয়তা।
সারাদেশ যখন ঈদের আনন্দ, পশু কোরবানি, আর পারিবারিক মিলনমেলায় ব্যস্ত, তখন এই কক্ষগুলোতে সময় যেন থমকে আছে। অভিভাবকদের কাছে ঈদ এখন আর উৎসব নয়; বরং সন্তানের সুস্থতার জন্য এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার নাম।
জানা গেছে, গতকাল সোমবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট হাম শনাক্ত হয়েছে ১৫৬ শিশুর। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি–বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৮৪ জন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৭৩২ জন এবং বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছে ২৫২ জন। এছাড়া হামে মারা গেছেন অন্তত ৯ শিশু।
মো. মনজুরুল কিবরিয়া নামে কক্সবাজারের এক অভিভাবক বলেন, প্রতিবছর কোরবানির ঈদ কাটে গরু নিয়ে। এবারও ঈদের দিন ভাবছিলাম সবাই মিলে খুশিতে থাকব। কিন্তু মেয়ের জ্বর কমছে না, তাই সারাদিন হাসপাতালেই বসে আছি। ঈদটা যেন আর ঈদ মনে হচ্ছে না।
মাহমুদা আক্তার নামে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার এক মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সবাই পশু জবাইয়ের মাধ্যমে ঈদ করছে। আর আমরা সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সময় পার করছি। ওর কষ্ট দেখলে নিজের সব আনন্দ হারিয়ে যায়।
এদিকে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হাম নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৮২৬ জন রোগী।
তবে ঈদের পরে হাম আক্রান্তের সংখ্যা সম্পূর্ণ কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, আমরা যদি হামকে মোকাবিলা করতে না পারতাম তবে হাজারো শিশু মারা যেতো। আমাদের হাতে পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে। প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে। ইতোমধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটা কমে গেছে। হাম আক্রমণ রোগীদের সংস্পর্শ থেকে সুস্থ বাচ্চাদের দূরে রাখতে পারলে আশা করি ঈদের পরে হাম আক্রান্তের সংখ্যা সম্পূর্ণ কমে আসবে।
এদিকে চট্টগ্রামে হামের প্রকোপ বাড়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোর শয্যা সংকট ও রোগীদের চরম দুর্ভোগ রুখতে এবার বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে এগিয়ে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, আমরা আশা করি, সবাই হাম ও হামের উপসর্গের রোগীকে দ্রুত ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করবেন এবং করোনাকালীন সময়ের মতো সেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।