শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

আশ্রয়শিবিরে কোরবানির ঈদ, রোহিঙ্গাদের জীবনে আনন্দের চেয়ে স্মৃতিই বেশি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬, ০৭:২৭

কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ঈদুল আজহা ঘিরে তৈরি হয়েছে এক মিশ্র অনুভূতি। বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি ঘরগুলোর ভেতরে বসে ঈদের প্রস্তুতি নয়, বরং অতীত জীবনের স্মৃতিচারণাই বেশি করছেন রোহিঙ্গারা।

বুধবার (২৭ মে) আশ্রয়শিবিরের সরু গলিতে কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী ঈদের আয়োজন নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তাদের কথায় বারবার উঠে আসছিল মিয়ানমারে ফেলে আসা জীবনের ঈদ উদযাপনের গল্প। যেখানে ছিল কোরবানির মাংস, পিঠা তৈরি আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি।

৫৫ বছর বয়সী রহিমা খাতুন জানান, আগে ঈদ মানেই ছিল উৎসবের ব্যস্ততা। এখন সেই আনন্দ কেবলই স্মৃতি। তার ভাষায়, মিয়ানমারে ঈদের দিন রাতভর পিঠা বানাতাম, সবাই মিলে কোরবানির মাংস ভাগ করে খেতাম। এখন সেই দিন আর নেই।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, এবার ঈদে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা পরিবারকে এক কেজি করে কোরবানির মাংস দেওয়া হবে। প্রায় দুই হাজার পশু জবাই করে এই মাংস বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি পশুর চামড়া এতিমখানায় দেওয়া এবং বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে লেদা আশ্রয়শিবিরে কিছু পরিবার ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোরবানির আয়োজন করছে। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক রোহিঙ্গার সহায়তায় একটি গরু কেনা হয়েছে, যা আটটি পরিবারের মধ্যে ভাগ করে কোরবানি দেওয়া হবে। কয়েকটি পরিবার আবার একসঙ্গে ছোট গরু কিনে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ আলম বলেন, খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার কোরবানির সক্ষমতা হারিয়েছে। বিদেশে থাকা স্বজনদের পাঠানো অর্থে অল্প কিছু পরিবার কোনোভাবে ঈদের আয়োজন করতে পারছে।

রোহিঙ্গা নেতারা জানান, অতীতে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় হাজার হাজার পশু কোরবানি দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে যাওয়ায় ঈদের উৎসব অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে রোহিঙ্গাদের কাছে ঈদ এখন আনন্দের চেয়ে হারানো জীবনের বেদনার প্রতিচ্ছবিই বেশি হয়ে উঠেছে।

ভিডিও