হামের প্রকোপে দিশেহারা জনপদ। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছে নিষ্পাপ, নিরীহ শত প্রাণ। হাসপাতালে ভর্তি হাজারো শিশু। হামে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা দেখা দিলে অক্সিজেন-সহায়তা প্রয়োজন হয়। চিকিৎসার প্রয়োজনে এসব রোগীদেরকে সরবরাহ করা হয় অক্সিজেন।
আর এমন সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির ব্যবসায়ী ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেনকে মেডিকেল অক্সিজেন বলে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে পয়সা। অথচ মানব শরীরের জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
১৮ মে চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানার লেকসিটি এলাকায় এসবি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি মেডিক্যাল অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটিতে সিলিন্ডারে সংরক্ষিত অক্সিজেন শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত অক্সিজেন (ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেন) বলে প্রমাণ পায় অভিযানকারীরা। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি কম দামে এসব অক্সিজেন পুরোনো সিলিন্ডারে ভর্তি করে বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহ করে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘ওই প্রতিষ্ঠানটি মেডিক্যাল অক্সিজেন বলে শিল্পকারখানার অক্সিজেন দুটি হাসপাতালে সরবরাহ করছিল। অভিযানে আমরা এর সত্যতা পেয়েছি। প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। চট্টগ্রামে আর কোনো দোকানে এমন ভেজাল অক্সিজেন বিক্রি হচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে আমরা খোঁজ নিচ্ছি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরে সবচেয়ে বেশি অক্সিজেন সিলিন্ডারের দোকান রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায়। এখানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অনেক অক্সিজেন বিক্রি হয়, যেগুলোর বিশুদ্ধতা ৮০ শতাংশও নয়। অথচ অনুমোদিত কোম্পানি বিওসি (লিনডে() ও স্পেক্ট্রার অক্সিজেনের বিশুদ্ধতা ৯২ থেকে ৯৯ শতাংশ। বিশুদ্ধ অক্সিজেনের ১০ লিটার বোতল মেশিনসহ ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা।
অন্যদিকে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত অক্সিজেনে প্রায় ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত অক্সিজেন থাকলেও এতে কার্বন মনোক্সাইডসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর গ্যাসের উপস্থিতি থাকতে পারে। এই অক্সিজেন মূলত ওয়েল্ডিং, ধাতু কাটা ও শিল্প উৎপাদনের কাজে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়। এ ধরনের অক্সিজেন মানবদেহে ব্যবহার করলে নানা ধরনের রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ বাদল শিকদার বলেন, ‘চট্টগ্রামে এখন দুটি প্রতিষ্ঠান মেডিক্যাল অক্সিজেন সরবরাহ করে। আরও একটি কারখানা প্রক্রিয়াধীন, তবে শিল্পের অক্সিজেন মেডিক্যালে সাপ্লাই দেওয়ায় বড় রকমের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। ঈদের বন্ধের পর আমরা অভিযানে নামব।’
পূর্বতারা