বৃষ্টি আর চড়া দামের চাপ—এই দুইয়ের মধ্যে পড়ে চট্টগ্রামের সাগরিকা পশুর হাটে এবার বেচাকেনায় দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ভাটা। হাটে গরু থাকলেও ক্রেতার দেখা মিলছে না, আর এ অবস্থায় হতাশা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন পশু ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) হাটে দাঁড়িয়ে রাজশাহী থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, “বেচাকেনা নেই, গরুর কোনো কাস্টমার নেই। গরু নিয়ে পড়ে আছি। সাগরিকা রোডে কোনো কাস্টমার নেই। আমরা গরু নিয়ে কান্না করতেছি।”
তিনি জানান, ভালো দামে বিক্রির আশায় আনা প্রায় ৭০–৮০টি গরুর বেশিরভাগই এখনো অবিক্রিত। যে গরুর দাম ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা হওয়ার কথা ছিল, সেটির দাম এখন ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত নামিয়ে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শুধু জামাল হোসেন নন, নগরের সাগরিকা, বিবিরহাটসহ বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটে একই চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতাদের অভিযোগ, আগে থেকেই পশুর দাম বেশি থাকায় ক্রেতা কম ছিল, আর বৃষ্টির কারণে হাটে মানুষের উপস্থিতি আরও কমে গেছে।
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা আরেক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে গরুর স্বাস্থ্য নিয়েও তারা চিন্তায় আছেন। ভেজা পরিবেশে পশু অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, পাশাপাশি রাতে মশার উপদ্রবও বেড়ে গেছে।
হাট সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন ট্রাকে করে গরু আসছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় প্রত্যাশিত সংখ্যক ক্রেতা এখনো হাটে আসছেন না।
অন্যদিকে ক্রেতাদের একটি অংশ বলছেন, তারা এখনো বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন এবং শেষ মুহূর্তে তুলনামূলক কম দামে গরু কেনার অপেক্ষায় আছেন। কেউ কেউ আবার গ্রামাঞ্চল বা খামার থেকে পশু কেনার কারণে নগরের হাটে চাপ কমে গেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সাগরিকা বাজারের ইজারাদারের প্রতিনিধি মোহাম্মদ আরিফ বলেন, আট কোটি টাকায় বাজারটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। এ টাকা তুলতে পারবো কিনা, সেই শঙ্কায় আছি। বাজারে গরু ও ক্রেতা আশানুরূপ হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর জানান, এবার চট্টগ্রাম জেলায় মোট ২১২টি পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের আওতায় ৩টি স্থায়ী এবং ৭টি অস্থায়ী হাট রয়েছে।
তিনি বলেন, খামার পরিচালনার খরচ বাড়ায় স্থানীয় উৎপাদন কিছুটা কমেছে, তবে অন্য জেলাগুলো থেকে পর্যাপ্ত পশু এসেছে। তবুও বাজারে ক্রেতা কম থাকায় বিক্রেতারা চাপের মুখে রয়েছেন।