বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

পাহাড়েও হামের হানা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬, ০৪:২৩

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা ও লামা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদগুলোতে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরবে ঝরছে প্রাণ। যদিও স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করছে, পরিস্থিতি আগের চেয়ে কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে।

বর্তমানে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫১ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ১২ জন শিশু।অন্যদিকে লামায় ১৩ জন রোগীর মধ্যে তিন শিশুর বয়স যথাক্রমে ১০, ১১ ও ১৩ বছর। স্থানীয় সংগঠনগুলোর দাবি, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক রোগী দুর্গম পাহাড়ি পাড়াগুলোতে চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে।

রূপসী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছলম পাড়ায় এখনও শোকাবহ পরিবেশ। কয়েকদিনের ব্যবধানে এখানে হামের উপসর্গ নিয়ে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় ছাত্রী প্রতিনিধি ক্রইঙই ম্রো বলেন, ‘পাহাড়ে হাসপাতালে যেতে অনেক সময় লাগে। অনেকে ভয়ও পায়। তাই প্রথমে ঘরোয়া চিকিৎসাই করে।’

স্থানীয় সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, গত এপ্রিল থেকে মে মাস পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও এ সংক্রান্ত জটিলতায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশই শিশু।

মৃতদের মধ্যে রয়েছে— সংরুং ম্রো (৩ মাস), রিংলত পাড়া, কুরুকপাতা – ১২ এপ্রিল; খতং ম্রো (৭ মাস), রিংলত পাড়া, কুরুকপাতা – ১২ এপ্রিল; তুম মুম ম্রো (৮), রুইতন পাড়া – ২২ এপ্রিল; য়ংরাও ম্রো (৮), য়ংএ পাড়া – ২৬ এপ্রিল; তাংতুই ম্রো (১১), রুইতন পাড়া – ২ মে; তুমরাও ম্রো (১), মেন রুয়া পাড়া – ১৪ মে; সংপ্রং ম্রো (১৮), ভেওলা পাড়া – ১৫ মে; লিম পাও ম্রো (২৫), বালুঝিরি – ১৮ মে; তুম পয় ম্রো (১১ মাস), পুমনাও পাড়া – ১৯ মে; সংছাই ম্রো (৭), ছলম পাড়া, লামা – ২০ মে; তুম য়েন ম্রো (১০ মাস), দড়ি পাড়া – ২০ মে; মেন লেং ম্রো (১), ছলম পাড়া, লামা – ২১ মে; থোই য়ং ম্রো (৪৫), রেংবক পাড়া – ২২ মে (কলেরায় আক্রান্ত); রুম পাও ম্রো (১৬), তন রাও পাড়া – ২৩ মে।

স্থানীয়দের দাবি, দুর্গম এলাকার অনেক মৃত্যু এখনও আনুষ্ঠানিক তালিকার বাইরে রয়ে গেছে।

বান্দরবানের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি হিসাবে জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। তবে স্থানীয় সংগঠনগুলোর দাবি, দুর্গম পাড়াগুলোতে অনেক মৃত্যু এখনও আনুষ্ঠানিক হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় মেডিকেল টিম পাঠিয়ে চিকিৎসাসেবা ও টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। মানুষকে দ্রুত হাসপাতালে আসতে হবে।’

পূর্বতারা/ইউডি

ভিডিও