শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বিজ্ঞাপনের জন্য জুলাই গ্রাফিতি মুছেন চসিক মেয়র, দাবি এনসিপির

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ০৮:৫১

চট্টগ্রাম নগরের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার থেকে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি ব্যবসায়িক বিজ্ঞাপনের জন্য মুছে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। তাদের দাবি, মেয়র পিলারগুলো বিজ্ঞাপনের জন্য ভাড়া দিতে চেয়েছিলেন। এখন জুলাইয়ের পক্ষের মানুষ বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় চাপে পড়ে তিনি মিথ্যা বলছেন।

গ্রাফিতি অপসারণকে ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার (১৮ মে) বিকেলে নগরের ষোলশহর স্টেশন চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মহানগর শাখার সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, গ্রাফিতি মুছে ফেলার বিষয়ে আমরা মেয়রের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। সেসময় মেয়র জানান, পিলারগুলোতে গ্রাফিতি থাকবে না, অন্য কোথাও আঁকার ব্যবস্থা করা হবে।

আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, তিনি যদি তখন বলতেন, পিলারেই নতুন গ্রাফিতি হবে, তাহলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

এই এনসিপির নেতা আরও বলেন, উনি জুডিশিয়াল রায়ের মাধ্যমে মেয়র হয়েছেন। জনগণের ভোটে তিনি মেয়র হননি। ওনার ন্যূনতম লজ্জাবোধ নাই। উনি আবার সেটা সব জায়গায় বলে বেড়ান জুডিশিয়াল রায়ের মাধ্যমে মেয়র হয়েছি। মেয়র পদে জোরপূর্বক উনি বসে আছেন। আমরা চাই আপনি থাকেন কিন্তু মেয়র হিসেবে নয় প্রশাসক হিসেবে।

বিপ্লব উদ্যান মানুষের একটি অবকাশ যাপনের জায়গা। সন্ধ্যায় নগরের মানুষ বউ-বাচ্চা নিয়ে কিছু সময় অতিবাহিত করেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত জায়গা এটি। যেখান থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি এখানে রয়েছে। উনি সে জায়গা দখল করে চারতলা করে দুটি মার্কেট করছেন। পুরো শহরের সমস্ত জায়গায় ফুটপাত দখল করে রেখেছে। ফুটপাতে দোকান বসিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের বরাদ্দ দিয়েছেন। ফুটপাত কারও বাপের জায়গা না। এটি জনগণের হাঁটার-চলাফেরা করার জায়গা।

বৃষ্টি হলে উনি একটা জ্যাকেট গায়ে দিয়ে নেমে যান। কেন উনি বৃষ্টি হওয়ার আগে জানেন না কোথায় জলাবদ্ধতা হবে? একজন মেয়র কেন জানবেন না নগরের জলাবদ্ধতার বিষয়ে? মশার কারণে ভালোমতো কোথাও বসা যায় না। পুরো শহর মশায় ভর্তি হয়ে গেছে। উনি কীভাবে সিটি করপোরেশনের মেয়র। উনি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ।

আওয়ামী লীগের আমলে তিনি কীভাবে ১৬টি গাড়ির মালিক হন, সেটি আমরা জানতে চাই। আমরা সব জানি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের রাজনীতি করেছেন তিনি।

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, চট্টগ্রামের ফ্লাইওভারের পিলারের প্রায় সবগুলোর গ্রাফিতি মেয়র শাহাদাত কেন মুছে দিয়েছেন সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। শুধু মুছে তিনি ক্ষান্ত হননি। বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে মর্মে তিনি সেখানে সাইনবোর্ড টাঙিয়েছেন। ইস্পাহানি মোড় থেকে টাইগারপাস মোড় পর্যন্ত বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে বলে রেস্ট্রিকটেড করে ফেললেন।

ভিডিও