শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সমন্বিত নজরদারিতে বন্দরে কমলো জলদস্যুতা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ০৫:৩৭

নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কঠোর ও সমন্বিত নজরদারির ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় দস্যুতা ও চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। গত সাড়ে পাঁচ মাসে বন্দরের বহির্নোঙর এলাকায় কোনো দস্যুতা বা চুরির অভিযোগ না থাকায় আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি আবারও ইতিবাচক অবস্থানে ফিরছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঝুঁকি কমে যাওয়ায় জাহাজ ভাড়াও আগের তুলনায় হ্রাস পাচ্ছে। কর্ণফুলী নদীর মোহনা হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের আলফা, ব্রেভো ও চার্লি অ্যাংকারেজ এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের মেটাল শার্ক বোট। এতে দেশি-বিদেশি আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল আরও নিরাপদ হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে ১৩টি চুরি ও দস্যুতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল। আর ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ঘটেছে ৪টি ঘটনা। তবে সর্বশেষ প্রান্তিকে চট্টগ্রাম বন্দরের ৬২ নটিক্যাল মাইল এলাকাকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেছে এশিয়ার সমুদ্রপথে দস্যুতা প্রতিরোধে কাজ করা সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংস্থা রিক্যাপ।

কোস্টগার্ড জানিয়েছে, গত দেড় বছরে ১ হাজার ৩২০টি অভিযানের মাধ্যমে ৪৭টি মার্চেন্ট জাহাজে দস্যুতার চেষ্টা প্রতিরোধ করা হয়েছে। একই সময়ে চুরি হওয়া ৫টি জাহাজের মালামালও উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, ছোটখাটো চুরি বা স্কিমিংয়ের চেষ্টা সবসময় থাকতে পারে। তবে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী এবং বন্দরের ভিটিএমএসের সমন্বিত নজরদারির কারণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে অপরাধীরা সুযোগ পাচ্ছে না। তিনি জানান, কর্ণফুলী চ্যানেলের ভেতরে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সারা বছর টহল দিচ্ছে।

কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম আউটার অ্যাংকারেজ ও কুতুবদিয়ার বহির্নোঙরে সবসময় কোস্টগার্ডের জাহাজ টহলে থাকে। কোনো জাহাজের দিকে দুষ্কৃতিকারীরা যেতে পারে, সেই তথ্য সংগ্রহ ও মনিটরিং করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

চট্টগ্রাম নৌবাণিজ্য অধিদফতরের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন শেখ জালাল উদ্দিন গাজী বলেন, আগে জলদস্যুতার কারণে অনেক জাহাজ মালিক চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ পাঠাতে অনীহা দেখাতেন। কেউ কেউ বাড়তি ঝুঁকির কারণে বেশি ভাড়াও দাবি করতেন। এতে ব্যবসার খরচ বেড়ে যেত। এখন পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কঠোর নজরদারির কারণেই এই অবস্থা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, প্রতিবছর চট্টগ্রাম বন্দর ও এর জলসীমায় ৪ হাজারের বেশি কন্টেইনারবাহী ও জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ আসে। গত ছয় মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পণ্যবাহী জাহাজ এসেছে। একই সময়ে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তায়ও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

ভিডিও